স্টাফ রিপোর্টার:-
বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিডিপিএ) বাংলাদেশের ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টদের একটি মাদার সংগঠন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বিগত সময়ে সংগঠনটির কিছু নেতৃত্ব সংগঠনের মূল লক্ষ্য ও গঠনতন্ত্রকে উপেক্ষা করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের সময় নির্বাচিত হওয়ার পর সংগঠনের গঠনতন্ত্রকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শপথবাক্যের মধ্যে “বঙ্গবন্ধুর আদর্শে সংগঠন পরিচালনা করা হবে” — এমন রাজনৈতিক বক্তব্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়। শুধু তাই নয়, শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের এমপি প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় সরাসরি অংশগ্রহণ করেন এবং সেসব ছবি তাদের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রচার করেন।
এছাড়াও তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের দুর্নীতির সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির সঙ্গে যোগসাজশ করে নিয়োগ বাণিজ্য করে কোটিপতি বনে যাওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগে কয়েকজন নেতার নাম গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। অথচ সংগঠনকে গতিশীল করার জন্য যে নিয়মিত সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার কথা ছিল, সেগুলো উপেক্ষা করে তারা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি-দালালির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।
৫ আগস্টের পর তাদের অতীত কর্মকাণ্ডের কারণে তারা দীর্ঘদিন সংগঠনের কোনো কার্যক্রম পরিচালনার সাহস বা সক্ষমতা দেখাতে পারেনি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কতিপয় জাতীয়তাবাদী আদর্শের পেশাজীবী নেতৃবৃন্দের ছত্রছায়ায় কিছু তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট সমাজের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
এছাড়াও গুঞ্জন রয়েছে যে, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এম-ট্যাব)-এর কয়েকজন শীর্ষ নেতা তাদের পেছন থেকে সহযোগিতা করছেন।
বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে গত ১০ মার্চ এম-ট্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজার জিয়ারতের সময় তাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করার পর।
আজ বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিডিপিএ)-এর ইফতার মাহফিলে বক্তৃতায় পরিষ্কার হয় যে, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এম-ট্যাব)-এর মহাসচিব বিপ্লবুজ্জামান বিপ্লব ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব দবির উদ্দিন খান তুষার এই নিন্দনীয় কাজের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।
শুধু তাই নয়, আওয়ামীপন্থী পেশাজীবীদের নেতৃত্বে থাকা বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিডিপিএ) ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে। রবিবার (১৬ মার্চ) রাজধানীর আসাদগেট এলাকার ফ্যামিলি ওয়ার্ল্ড টাওয়ারে এই ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
অভিযোগ, বিএনপিপন্থী আরেক পেশাজীবী সংগঠন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এম-ট্যাব) কয়েকজন নেতা তথ্য গোপন করে তাকে প্রধান অতিথি করে নিয়ে গেছেন। ইফতার মাহফিলে তারাও উপস্থিত ছিলেন।
সর্বশেষ ২০২৩ সালে বিডিপিএর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে গাজী সাইফুল ইসলাম সভাপতি এবং মো. জহিরুল ইসলাম মহাসচিব নির্বাচিত হন। তারা আওয়ামীপন্থী হিসেবে পরিচিত। সে সময়ে বিএনপিপন্থী ফার্মাসিস্টরা ছিলেন কোণঠাসা।
রবিবারের ইফতার মাহফিলে এম-ট্যাবের সভাপতি একে মুসা লিটন, মহাসচিব বিপ্লবুজ্জামান বিপ্লব, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব দবির উদ্দিন তুষারসহ আরও কয়েকজন নেতা অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মরত বিএনপিপন্থী কর্মকর্তাদের অভিযোগ, তথ্য গোপন করে তারা এমপি আব্দুস সালামকে বিডিপিএর আওয়ামীপন্থী ফার্মাসিস্টদের নেতৃত্বাধীন কমিটির অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিএনপিপন্থী একজন কর্মকর্তা বলেন, আওয়ামী লীগের রাতের ভোটের মেয়াদে বিএনপিপন্থী নেতাকর্মীদের কোণঠাসা করে এই কমিটি গঠিত হয়। কমিটি শপথ নেয় শেখ মুজিবুর রহমানের নামে। অথচ সেই কমিটির ইফতার মাহফিলে তথ্য গোপন করে বিএনপির একজন সংসদ সদস্যকে নিয়ে গেছেন তারা। এই কর্মকর্তা বলেন, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সরকারি চাকরির অফিস ফাঁকি দিয়ে ডিজি অফিসে (স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে) বদলি বাণিজ্য করে বেড়ানো এম-ট্যাবের এই নেতারা প্রকাশ্যে ফ্যাসিস্টদের সঙ্গী হয়েছেন। সেই সঙ্গে ফ্যাসিস্টদের প্রতিষ্ঠিত করতে আওয়ামী লীগ আমলে জোর করে ভোট ডাকাতি করে কমিটি গঠন করা গাজী-জহির-আলমগীর পরিষদের ইফতার মাহফিল সম্পন্ন করে দিয়েছেন।
এর আগেও বিপ্লবুজ্জামান বিপ্লব ও দবির উদ্দিন তুষারের নামে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুর রহমানের বদলি ঠেকাতে ১৫ লক্ষ টাকা এবং আওয়ামীপন্থী পেশাজীবী সংগঠন বঙ্গবন্ধু মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পরিষদের মহাসচিব আশিকুর রহমানকে ৫ লক্ষ টাকা, স্বাধীনতা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পরিষদের জয়েন্ট সেক্রেটারি গোলাম কিবরিয়াকে ৩ লক্ষ টাকা এবং ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীরকে ৪ লক্ষ টাকার বিনিময়ে দবির উদ্দিন তুষাররা ঢাকায় স্থায়ী করেছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কিছুদিন আগে ধারদেনা করে সংসার চালানো তৃতীয় শ্রেণির এসব চাকরিজীবীর হঠাৎ করে ২০ লক্ষ টাকার গাড়িতে চড়ে বেড়ানো দেখে অনেকেই বিস্মিত। দলীয় ক্ষমতা এবং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিলের নাম ভাঙিয়েও বিভিন্ন অপকর্ম করে চলেছে এই চক্রটি। এছাড়া সকল নিয়ম ভেঙে ডেন্টাল, রেডিওলজি এবং ফিজিওথেরাপি থেকেও ল্যাবের পদে নাম দিয়ে হজ মেডিকেল টিমে পছন্দের লোককে অন্তর্ভুক্ত করেছে তারা।
এদিকে বিভিন্ন সময়ে এসব খবর পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি হজ মন্ত্রণালয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ভুক্তভোগী জানান, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগসাজশে এই দুর্নীতি সম্পন্ন হয়েছে। তবে সহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলাম বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
সাধারণ ফার্মাসিস্টদের অনেকেই আশঙ্কা করছেন, হয়তো মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এসব বিতর্কিত নেতাদের পুনরায় নেতৃত্বে আনার অপচেষ্টা চলছে।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করে, বিষয়টি নিয়ে জাতীয়তাবাদী দলের নীতিনির্ধারকদের এখনই সজাগ হওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় সংগঠন ও দলের শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলা নিউজ মিডিয়া কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp & IMO 01886833283
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন (আর্তমানবতার সেবায়) বিকাশঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩