নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ছাত্রজীবনের ক্রীড়াঙ্গন থেকে রাজনীতির মাঠ—দীর্ঘ সংগ্রাম আর প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে পথচলা রাজশাহী জেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোসা. রত্না খাতুনের। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত।
একসময় তিনি ছিলেন প্রতিশ্রুতিশীল ক্রীড়াবিদ। ভলিবল, হ্যান্ডবল ও অ্যাথলেটিক্সে জেলা ও আঞ্চলিক পর্যায়ে নিয়মিত অংশগ্রহণ করতেন। ভলিবল ও হ্যান্ডবলে জাতীয় দলে খেলার সুযোগও পেয়েছিলেন তিনি। তবে পারিবারিক আপত্তির কারণে শেষ পর্যন্ত খেলাধুলার মাঠ ছেড়ে রাজনীতির মাঠেই নিজের পথচলা শুরু করেন।
ছাত্রজীবনেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের একজন কর্মী হিসেবে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন রত্না খাতুন। পরবর্তীতে বিএনপির মূল রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে জেলা পর্যায়ে মহিলা দলের সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি ২০২০ সাল থেকে এখন অব্দি তারেক জিয়া প্রজন্ম দলের সঙ্গে যুক্ত আছেন। ২০১৬ সাল থেকে রাজশাহী জেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ২০১৯ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত নওহাটা পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
তার রাজনৈতিক জীবনের একটি বড় সময় কেটেছে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে। গত ১৭ বছরে তিনি নানা ধরনের হয়রানি, নির্যাতন ও দমন-পীড়নের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন। পুলিশি হয়রানির কারণে অনেক সময় মাসের পর মাস বাড়ির বাইরে থাকতে হয়েছে তাকে। কখনো না খেয়ে দিন কাটাতে হয়েছে, বৃষ্টিতে ভেজা কাপড় রোদে শুকিয়ে আবার তা পরেই থাকতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তার অভিযোগ, তাকে না পেয়ে পুলিশ একাধিকবার তার বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে এবং পরিবারের সদস্যদের, এমনকি তার একমাত্র সন্তানকেও তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তবে স্থানীয় মানুষের প্রতিবাদের কারণে তা সম্ভব হয়নি।
২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় নিজের ভোটকেন্দ্রে প্রধান এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন রত্না খাতুন। ওই সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে হত্যা ও গুমের উদ্দেশ্যে আটকে রাখা হয়েছিল। পরে স্থানীয় মানুষের প্রচেষ্টা এবং ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল এর জোনাল অফিসার আফসানা বেবি ও ও ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন ভাইয়ের যৌথ প্রচেষ্টায় তিন প্লাটুন বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে রাত নয়টার সময় তাকে মুক্ত করে সেনাবাহিনীর পাহারায় বাড়িতে পৌছে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন। এরপরও তিনি রাজনীতির পথ থেকে সরে দাঁড়াননি বলে জানান।
২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিএনপির সমাবেশেও তিনি অংশ নেন। ওই সমাবেশে তার সঙ্গে একটি ব্যাগ ছিল, যার মধ্যে কাফনের কাপড়, চিড়া, গুড় ও পানির বোতল ছিল। সমাবেশ চলাকালে টিয়ার শেল ও রাবার বুলেটের আঘাতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। অনেকে তখন তাকে মৃত ভেবেছিলেন। পরে দলের এক নেতা তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
ওই ঘটনায় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে, শরীরের চামড়া উঠে যায় এবং মুখে পোড়া দাগ পড়ে। সেই ঘটনার কিছু চিহ্ন এখনও বহন করছেন তিনি। বর্তমানে চোখের সমস্যার কারণে তাকে চশমা ব্যবহার করতে হচ্ছে।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি নির্বাচনী রাজনীতিতেও অংশ নিয়েছেন। ২০১৫ সালে নওহাটা পৌরসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। ২০১৬ সালে রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হন। এছাড়া ২০২১ সালের নওহাটা পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার দাবি করলেও ফলাফলে তাকে পরাজিত দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
সব প্রতিকূলতা ও দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্যেও তিনি এখনও রাজনীতির ময়দানে সক্রিয় রয়েছেন। গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন রাজশাহী জেলা মহিলা দলের এই সাংগঠনিক সম্পাদক।
বাংলা নিউজ মিডিয়া কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp & IMO 01886833283
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন (আর্তমানবতার সেবায়) বিকাশঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩