গার্মেন্টস শ্রমিকের ছেলে থেকে ৪ বিসিএসে সুপারিশ—এবার প্রশাসন ক্যাডারে মো. ফয়সাল আহমেদের অনন্য সাফল্য
নিজস্ব প্রতিবেদক: অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম এবং অধ্যবসায়ের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার তিনগাঁও গ্রামের কৃতী সন্তান মো. ফয়সাল আহমেদ। তিনি টানা চারটি বিসিএসে অংশ নিয়ে চারটিতেই সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে বিরল সাফল্যের নজির গড়েছেন।
ফয়সাল আহমেদ ৪৪তম বিসিএসে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে বর্তমানে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া ৪৫তম বিসিএসে ইন্সট্রাক্টর (৯ম গ্রেড) নন-ক্যাডার, ৪৬তম বিসিএসে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার এবং সর্বশেষ ৪৭তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাঁর এই ধারাবাহিক সাফল্য পরিবার, স্বজন এবং এলাকাবাসীর জন্য গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে।
১৯৯৮ সালের ২৫ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করা ফয়সাল আহমেদের বাবা মো. আলী হোসেন একজন গার্মেন্টস শ্রমিক এবং মা ফজিলা বেগম একজন গৃহিণী। সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের পরিবার থেকে উঠে এসেও তিনি মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন।
তিনি নারায়ণগঞ্জের আই.ই.টি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেন। এরপর সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ লাভ করেন। একই কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০১৬–১৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক পর্যায়ে সিজিপিএ ৩.৩৯ এবং ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষে স্নাতকোত্তরে সিজিপিএ ৩.৫৬ অর্জন করেন।
বিসিএস ক্যাডারে যোগদানের আগে তিনি ২০২১ সালভিত্তিক নিয়োগে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি-এ সিনিয়র অফিসার (জেনারেল) হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে পেট্রোবাংলা-তে সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি ৪৪তম বিসিএসের সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন।
ফয়সাল আহমেদের এই অসাধারণ অর্জন প্রমাণ করে, পারিবারিক সীমাবদ্ধতা কখনোই সাফল্যের পথে বাধা হতে পারে না। লক্ষ্য নির্ধারণ, নিরলস পরিশ্রম এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে যে কোনো স্বপ্নই বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব। তাঁর এই সাফল্য দেশের বিসিএস প্রত্যাশী তরুণ-তরুণীদের জন্য এক অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
বাংলা নিউজ মিডিয়া কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp & IMO 01886833283
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন (আর্তমানবতার সেবায়) বিকাশঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩