প্রথম বিসিএসেই স্বাস্থ্য ক্যাডার: মানুষের সেবার স্বপ্ন পূরণ করলেন ডা. তানজিয়া সাইফুল তৃপ্তি
মিজানুর রহমান, বিশেষ প্রতিবেদন:
"নিজেই নিজের অনুপ্রেরণা। আমার তেমন কোনো গল্প নেই।"—খুব সাধারণ এই কথার আড়ালেই লুকিয়ে আছে অসাধারণ অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস এবং মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করার এক অনন্য প্রত্যয়। সেই প্রত্যয়ের বাস্তব রূপ দিয়েছেন ডা. তানজিয়া সাইফুল তৃপ্তি, যিনি জীবনের প্রথম চাকরির পরীক্ষাতেই ৪৮তম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।
ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ার প্রতি ছিল তাঁর প্রবল আগ্রহ। সেই আগ্রহই তাঁকে বাড়ি থেকে দূরে গিয়ে রাজধানীর স্বনামধন্য হলি ক্রস কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করতে অনুপ্রাণিত করে। এরপর চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন বুকে নিয়ে ভর্তি হন সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজে। কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মধ্য দিয়ে সফলভাবে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষাজীবনের পরিবর্তে মেডিকেল কলেজের কঠিন, সময়সাপেক্ষ ও দায়িত্বপূর্ণ পথ বেছে নিয়েছিলেন শুধুমাত্র মানুষের সেবা করার অদম্য ইচ্ছা থেকে। শুরু থেকেই তাঁর লক্ষ্য ছিল একজন দক্ষ, মানবিক ও দায়িত্বশীল চিকিৎসক হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
৪৮তম বিসিএসই ছিল তাঁর জীবনের প্রথম চাকরির পরীক্ষা। ইন্টার্নশিপ শেষ হওয়ার পর টানা পাঁচ থেকে ছয় মাস নিজেকে পুরোপুরি প্রস্তুতির মধ্যে ডুবিয়ে রাখেন। দিনের পর দিন ঘরের দরজা বন্ধ করে নিরলস অধ্যয়ন, কঠোর আত্মনিয়োগ ও অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই প্রথম চেষ্টাতেই অর্জন করেন কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। ৪৮তম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ায় তিনি ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায়ও অংশগ্রহণ করেননি।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ডা. তানজিয়া সাইফুল তৃপ্তি বলেন,
"সৃষ্টিকর্তা আমাকে মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি দিয়েছেন। এই অর্জনের জন্য মহান রব্বুল আলামীনের কাছে আমি অশেষ কৃতজ্ঞ। তাঁর অশেষ রহমত ও দয়া ছাড়া এই সাফল্য সম্ভব হতো না।"
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন,
"আমার ইচ্ছা ছিল মানুষের সেবা করা। মহান আল্লাহ আমাকে সেই সুযোগ করে দিয়েছেন। একজন চিকিৎসক হিসেবে সততা, আন্তরিকতা ও মানবিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই।"
ডা. তানজিয়া সাইফুল তৃপ্তির এই অর্জন প্রমাণ করে, সুস্পষ্ট লক্ষ্য, আত্মবিশ্বাস এবং নিরলস পরিশ্রম থাকলে প্রথম প্রচেষ্টাতেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব। তাঁর এই সাফল্য শুধু পরিবারের জন্যই গর্বের নয়, বরং চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখা অসংখ্য তরুণ-তরুণী এবং বিসিএস প্রত্যাশীদের জন্যও অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
বাংলা নিউজ মিডিয়া কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp & IMO 01886833283
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন (আর্তমানবতার সেবায়) বিকাশঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩