নিজস্ব প্রতিবেদক: মোঃ জালাল উদ্দিন।
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে এক আন্তরিক দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভৈরবগঞ্জ মদিনা ডেকোরেটারের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক আব্দুল খালেক (বাবুর্চি)-এর উদ্যোগে এ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
বুধবার (১৮ মার্চ ২০২৬, ২৮ রমজান ১৪৪৭ হিজরি) শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর বাজার সংলগ্ন তার নিজ বাসভবনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় বিশিষ্টজনরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির কোষাধ্যক্ষ (অর্থ সম্পাদক) ও ভৈরবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা ক্বারি মোহাম্মদ আব্দুল মুতালিব, লাইফ শাইন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমান, দৈনিক জানসংগ্রাম পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক সাংবাদিক মোঃ জালাল উদ্দিন, সিরাজনগর গাউছিয়া জালালিয়া মমতাজিয়া ছুন্নীয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক মোঃ মাহমুদুল হাসান, ক্যান্টিন ম্যানেজার মোঃ আলমগীর হোসেন, এবং মাওলানা আবিদশাহ মুজাহিদীসহ আরও অনেকে।
ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে মিলাদ ও কিয়াম পরিচালনা করেন মাওলানা আবিদশাহ মুজাহিদী। পরে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা ক্বারি মোহাম্মদ আব্দুল মুতালিব।
আয়োজকের বক্তব্যে যা বলা হয়:
ভৈরবগঞ্জ মদিনা ডেকোরেটারের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক আব্দুল খালেক (বাবুর্চি) তার বক্তব্যে বলেন, পবিত্র মাহে রমজান হলো আত্মশুদ্ধি, সংযম, ত্যাগ ও তাকওয়া অর্জনের মাস। এই মাস আমাদের ধৈর্য, সহনশীলতা ও মানবিকতার শিক্ষা দেয় এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করে।
তিনি বলেন, এ মাসে প্রত্যেক মুসলমানের উচিত বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগিতে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখা, পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা করা। একই সঙ্গে সমাজের অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ইফতার মাহফিল শুধু খাবার গ্রহণের আয়োজন নয়; এটি পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এ ধরনের আয়োজন সমাজে ভালোবাসা ও ঐক্যের বন্ধনকে সুদৃঢ় করে।
আব্দুল খালেক (বাবুর্চি) বলেন, তার এই ক্ষুদ্র আয়োজনের মাধ্যমে তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেছেন। মহান আল্লাহ যেন সকলের ইবাদত কবুল করেন এবং সবাইকে সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার তাওফিক দান করেন—এ কামনাও করেন তিনি।
পরিশেষে তিনি সকলের কাছে দোয়া কামনা করে তার প্রয়াত মা-বাবা ও আত্মীয়-স্বজনদের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনায় দোয়ার আহ্বান জানান।
মাহফিলের শেষ পর্যায়ে আয়োজকের পরিবারের প্রয়াত মা-বাবা ও আত্মীয়-স্বজনদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। পাশাপাশি উপস্থিত সকলের মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন এবং সর্বস্তরের মানুষের সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়। দোয়া শেষে উপস্থিত সবাই একসঙ্গে ইফতার গ্রহণ করেন।