শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ০৬:৫৭ অপরাহ্ন
আজকের শিরোনাম
তাহিরপুর বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আবু সায়েম   এসপি মাহবুব আলম খানকে নিয়ে উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন মৌলভীবাজারে মতবিনিময় সভা ও আহ্বায়ক ক‌মি‌টি গঠন টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের জায়গা পরিদর্শনে সিলেট-২ এর সাংসদ তাহসিনা রুশদীর লুনা সরকারের দেওয়া উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হবে : এমপি লুনা তাহিরপুরে ৪২ পিস ইয়াবা,নগদ টাকা, মোটরসাইকেলসহ ১জন আটক। জগন্নাথপুর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় মহিউদ্দিন বাবলু  ১৪ দফা দাবিতে গাজীপুরে বিএমএসএফের র‍্যালি ও আলোচনা সভা চট্টগ্রামে মাইজভান্ডারি গবেষক আল্লামা গোলাম মোস্তফা শায়েস্তা খাঁন আজহারীর ইন্তেকাল চরবাড়ুকা, বাঘেচরা হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মানববন্ধন

সিরাজগঞ্জে মাজারেরকবর খুড়ে দেহাবশেষ নিয়ে গেলমাদ্রাসার ছাত্র ও মৌলভীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: / ১৬২ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪



সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় এবার মাজারে হামলা চালিয়ে তিনটি কবর খুড়ে দেহাবশেষ নিয়ে গেছে মাজার বিরোধী মাদ্রাসার ছাত্র ও মৌলভীরা। এসময়মাজারের বিভিন্ন স্থাপনা ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করাহয়েছে। সোমবার (৯ সেপেটম্বর) সদরউপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে অবস্থিত ‘হযরত বড়পীর গাউসুল আজম দরবার শরীফে’ এ ঘটনা ঘটে।সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মাইকিং করে এবং শত শত লোকজনজমায়েত হয়ে এমন তান্ডব চালালেও কেউ তাতে বাধা দেয়নি।

এর আগে ২৯ আগষ্ট কাজিপুরউপজেলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চল মনসুর নগর ইউনিয়নের বামনজানি বাজারের পাশে অবস্থিত আলী পাগলার মাজার এবং ৩ সেপ্টেম্বর সদরউপজেলার কালিয়া হরিপুর গ্রামের ইসমাইল পাগলার মাজার ভাংচুর করা হয়।

মঙ্গলবার সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, মাজারের ৩টি কবর ঘুরে তাঁর ভিতরে থাকা মানুষের হাঁড়, মাথার খুলি ও চুল দৃর্বৃত্তরানিয়ে গেছে। দুইটি খানকা ঘর ও একটিরান্না ঘর ভাংচুর করাহয়েছে। আগুণ দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে মাজারের জরুরী কাগজপত্র ও বিভিন্ন সরংঞ্জাম।মাজারের দানবাক্স ও ট্যাংক ভেঙ্গেনগদ টাকা লুটপাট করা হয়েছে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে রাখা হয়েছে মাজারের নানা সরংঞ্জাম।

মাজারের খাদেম শিলন্দা গ্রামের হাফিজুল ইসলাম বলেন, রবিবার সকাল ১০টার দিকে শিয়ালকোল বাজারে একদল মাদ্রাসার ছাত্র ও মৌলভীরা জমায়েতহয়ে মাইকে মাজার ভাংচুরের ঘোষনা দেয়। এরপর তারা মিছিল সহকারে মাজারে এসে বিকেলে ৪টা পর্যন্ত তান্ডব চালায়। এসময় তারা শাবল, হ্যামার, দুরমুজ, লোহার রড ও লাঠিসোটাদিয়ে মাজারের বিভিন্ন স্থাপনা ভাংচুর করে। ৩টি পাকা কবর ভেঙ্গে কবরের ভিতরে থাকা দেহাবশেষ (শরীরের হাঁড়, মাথার খুলি ও চুল) বস্তায়ভরে নিয়ে যায়। ঘটনার সময় চারিদিকে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। আগত লোকজনকে তারা ছবি তুলতে ও ভিডিও করতেনিষেধ করেন। বিষয়টি তাৎক্ষনিক থানা পুলিশকে জানানো হলেও এ পর্যন্ত তারাকেউ এখানে আসেনি। থানায় গিয়ে ওসি সাহেবকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি লিখিত অভিযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন।

মাজার কমিটির সাধারন সম্পাদক ও শিয়ালকোল ইউনিয়নবিএনপির সহ-সভাপতি সিলন্দাগ্রামের হযরত আলী বলেন, বিগত সরকারের আমলে দীর্ঘ ১৭ বছর এখানেমাজারের কার্যক্রম চললেও কেউ কোনদিন বাধা দেয়নি। অথচ এখন প্রকাশ্যে ‘তৌহিদি জনতার’ নাম ভাঙ্গিয়ে মাজারে হামলা চালিয়ে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করাহচ্ছে এবং কবর থেকে মানুষের দেহাবশেষ তুলে নেওয়া হয়েছে। এটা কেমন স্বাধীন দেশ, যেখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতানেই, এমন স্বাধীনতা তো আমরা চাইনি।আমরা এই সহিংস ঘটনারবিচার চাই।

মাজারের ভূমিদাতা শাহ সুফি ফকির শহিদ শাহের বৃদ্ধা মা ওমিছা বেগমবলেন, মানুষের সাথে মানুষের শক্রতা সাথে থাকতে পারে। কিন্তু মৃতদেহের সাথে কোন শক্রতা থাকার কথা না। অথচ হামলাকারীরা মাজারে হামলা চালিয়ে আমার ছেলের কবর ঘুড়ে তাঁর দেহাবশেষ নিয়ে গেছে। এটা কেমন শক্রতা। আমি এমন নির্মম ও লোমহর্ষক ঘটনারবিচার চাই।  

মাজার কমিটির সভাপতি আব্দুল ওয়াহাব কালু বলেন, স্থানীয় বহুলী ইউনিয়নের বেড়াবাড়ি গ্রামের শাহ সুফি ফকির শহিদ শাহ ১৫ শতক এবংশিয়ালকোল ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের খাজা সফুরা পাগলী ৫ শতক মিলেমোট ২০ শতক জায়গা২০০৫ সালে হযরত বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানী (রাঃ) দরবার শরীফের নামে ওয়াকফ্ করে দিয়েছেন। এরপর থেকে এখানে দরবার শরীফের কার্যক্রম চলতে থাকে। ২০০৭ সালে রঘুনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা তরিকায়ে কাদরিয়ার অনুসারী দরবেশ আলতাফ শাহ, ২০১৪ সালে মাজারের ভূমিদাতা শাহ সুফি ফকির শহিদ শাহ এবং ২০১৬ সালে ভূমিদাতা খাজা সফুরা পাগলী মারা গেলে দরবার শরীফেই তাদের আলাদা কবর দেওয়া হয়।

তিনি আরো বলেন, প্রতি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার এবং প্রতি মাসের পূর্নিমার রাতে দরবার শরীফে জিকির, মিলাদ মাহফিল ও মুর্শিদী গানেরআয়োজন শেষে তবারক বিতরণ করা হয়ে থাকে। প্রতি বছর ৮ সেপ্টেম্বর এখানেবাৎসরিক অনুষ্ঠান হয়। বড় বড় শিল্পীরাএখানে গান-বাজনা করতে আসেন। এখানে হাজার হাজার ভক্তের আগমন ঘটে। এতোদিন এসব কাজে কেউ বিরোধীতা করেনি। কিন্তু এখন মাজারগুলোতে হামলা চালিয়ে ক্ষতি করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবির বলেন, মাজার ভাংচুরের কথা শুনেছি। উনারা (খাদেম) থানায় এসেছিল, লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযোগ পেলে পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।












আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর