মানববন্ধনের একদিন না পেরোতেই শ্রীবরদী হাসপাতালে ফের হামলা, কর্মচারী তারেকের কানের পর্দা ফেটে গেছে
মিজানুর রহমান, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি: শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালনের একদিন না পেরোতেই আবারও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এবার হামলার শিকার হয়েছেন হাসপাতালের আউটসোর্সিং কর্মচারী তারেক। হামলায় গুরুতর আহত তারেকের কানের পর্দা ফেটে গেছে বলে চিকিৎসা পরীক্ষায় জানা গেছে।
আজ (১ নভেম্বর) আনুমানিক দুপুর ২টা ৩৬ মিনিটে হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সামনের প্রাঙ্গণে এ হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, রতন নামের এক বহিরাগত ব্যক্তি অতর্কিতভাবে কর্মচারী তারেকের ওপর হামলা চালিয়ে উপর্যুপরি কিল-ঘুষি মারতে থাকে।
এ সময় হামলায় তারেক গুরুতর আহত হন। তাঁর নাক, মুখ ও কান দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়। পরে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পর কানের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তাঁর কানের পর্দা ফেটে যাওয়ার বিষয়টি শনাক্ত হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মানববন্ধনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানোর একদিন না যেতেই একই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবারও হামলার ঘটনা ঘটায় হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একটি সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন করে প্রশ্ন।
প্রশ্ন উঠেছে, মানববন্ধনের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানোর পরও যদি এ ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাহলে একটি সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা কোথায়?
এ ঘটনায় হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
হাসপাতাল কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের স্থান নয়। এটি মানুষের চিকিৎসাসেবা গ্রহণের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। হাসপাতালের ভেতরে এ ধরনের হামলা শুধু কর্মরত ব্যক্তিদের নিরাপত্তাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে না, বরং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশকেও ব্যাহত করে।
হাসপাতালের কর্মীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁরা চান, শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হোক সন্ত্রাস, হামলা ও ভয়ভীতিমুক্ত একটি নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান।