সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন
আজকের শিরোনাম
বগুড়ায় সাংবাদিকের বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা: ঢাকা প্রেসক্লাবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ। তাহিরপুর সীমান্তে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে ৩ বাংলাদেশিকে আটক করেছে বিজিবি। গারো পাহাড়ে বন রক্ষায় মানববন্ধন: আগুন প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ব্যানার স্থাপন! ভুরুঙ্গামারীতে মানব সমাজ কল্যাণ ক্লাব’র আর্থিক সহায়তা ও ঈদ উপহার প্রদান শ্রীমঙ্গলে আব্দুল খালেকের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল—দোয়া কামনায় মিলিত সর্বস্তরের মানুষ; রাউজান প্রেস ক্লাবের উপহার বিতরণ সাংবাদিকদের মানবিক উদ্যোগ প্রশংসনীয়: সাবের সুলতান কাজল বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিডিপিএ)-কে বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শে রূপান্তরের অভিযোগ: ফ্যাসিস্ট দোসর পুনর্বাসনের অপচেষ্টা পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাকেরগঞ্জ উপজেলার বিএনপির সাবেক সদস্য জনাব এস, এম নিয়াজ মোর্শেদ ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বেস্ট ফিজিওথেরাপি হসপিটালের ডাইরেক্টর মোঃ আক্তার হোসেন উপজেলা প্রেসক্লাব ভূরুঙ্গামারী’র ইফতার মাহফিল

যমুনায় কমছে পানি, বাড়ছে খাদ্য সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১৫০ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: বুধবার, ১০ জুলাই, ২০২৪

যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মাত্র ২ সে.মি কমে বিপদসীমার ৩৭ সে.মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধীর গতিতে পানি কমায় জেলার সদর, কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চলের ৩৪টি ইউনিয়নের এখনো ৯৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী রয়েছে। দীর্ঘদিন পানিবন্দী মানুষের কাজকর্ম না থাকায় বানভাসী মানুষের মধ্যে খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। সরকারী ভাবে প্রতিটি ইউনিয়নে জনপ্রতি ১০কেজি হারে চাল বরাদ্দ দেয়া হলেও এখনো অনেক মানুষ ত্রান সামগ্রী থেকে বঞ্চিত রয়েছে। জেলার অর্ধশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সাড়ে ৬ হাজার হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে নস্ট হয়ে যাওয়া কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। গবাদি পশুর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।


জনপ্রতিনিধিরা বলছে, সরকার থেকে যে চাল দেয়া হয়েছে তা বন্যা কবলিত মানুষের প্রয়োজনের তুলনায় একেবারে অপ্রতুল। অন্যদিকে, পানি কমার সাথে সাথে যমুনার অরক্ষিত অঞ্চল কাজিপুরের খাসরাজবাড়ী, তেকান, নিশ্চিতপুর, সদর উপজেলার কাওয়াকোলা, শাহজাদপুর উপজেলার আড়কান্দি, পাঁচিল, কৈজুরী, জালালপুর ও চৌহালীতে ব্যাপক ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। ভাঙ্গনে বসতভিটা, রাস্তাঘাট, ফসলি জমি, কবরস্থান, মসজিদ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিলীন হয়ে যাচ্ছে।


সয়দাবাদ ইউপির বাঐতারা, পুর্বমোহনপুর গ্রামের বন্যা কবলিতরা জানান, পানির অপর নাম জীবন হলেও যমুনার পানি এখন আমাদের মরনে পরিণত হয়েছে। রাস্তাঘাট, বসতবাড়ী, তাঁত কারখানা ও ফসল এখনো পানির নীচে তলিয়ে রয়েছে। মানুষের কাজ কর্ম না থাকায় খুব কস্টে জীবনযাপন করছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। নৌকা করে দুর থেকে পানি এনে পান করতে হচ্ছে। পানিতে থাকায় হাত পায়ে ঘা দেখা দিয়েছে। নানা অসুখ দেখা দিয়েছে। মানুষের কাছে ওষুধ কেনার টাকা নেই। রাতে পানিতে পোকা-মাকড়, সাপ বিচ্চুর ভয় নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে। কস্টে থাকলেও জনপ্রতিনিধিরা খোজ নেয় না।


আর ভাঙ্গন কবলিতরা জানান, ভাঙ্গনে বসতবাড়ী ও ফসলি জমিসহ সবকিছু হারিয়ে রাস্তার ফকির হয়ে যাচ্ছি। ভাঙ্গনরোধে কেউ ব্যবস্থা নিচ্ছে না। প্রতিদিন ভাঙ্গনে বসতভিটা হারিয়ে নি:স্ব হয়ে পড়তে হচ্ছে।

সয়দাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান নবিদুল ইসলাম বলেন, আমার ইউনিয়নের প্রায় ১০-১২টি গ্রামের মানুষ পানি বন্দী। সরকার থেকে মাত্র ২টন চাল ও ২শ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। চারশ মানুষে মধ্যে বিতরন করা সম্ভব। তিনি বলেন, যারা পানিবন্দী তারা অত্যন্ত গরীব ও দিনমজুর। কাজ কর্ম না থাকায় পানিবন্দী মানুষ খুব কষ্টে রয়েছে। পানিবন্দীর চেয়ে ত্রান একেবারে অপ্রতুল উল্লেখ করে দ্রুত সরকারের কাছে আরো ত্রান বিতরনের দাবী জানান।

কাওয়াকোলা ইউপি চেয়ারম্যান জিয়া মুন্সী বলেন, কাওয়াকোলা ইউনিয়নে বন্যায় ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে তিন থেকে চার শতাধিক বসতভিটাসহ ফসলী জমি বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গনের কারনে ইউনিয়নটি মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। পাউবো কোন ব্যবস্থা গ্রহন করছে না।



পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানান, যমুনা নদীর তীর সার্বক্ষিনিক মনিটরিংয়ের মধ্যে রেখেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। বাঁধে কোন সমস্যা দেখা দেয়ার সাথে সাথে ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে। আর যেসব এলাকায় তীব্র ভাঙ্গন সেখানে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙ্গন রোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে যমুনা নদীর ভাঙ্গন তাৎক্ষনিক নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব হয় না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর