বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন
আজকের শিরোনাম
সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন মৌলভীবাজারে মতবিনিময় সভা ও আহ্বায়ক ক‌মি‌টি গঠন টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের জায়গা পরিদর্শনে সিলেট-২ এর সাংসদ তাহসিনা রুশদীর লুনা সরকারের দেওয়া উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হবে : এমপি লুনা তাহিরপুরে ৪২ পিস ইয়াবা,নগদ টাকা, মোটরসাইকেলসহ ১জন আটক। জগন্নাথপুর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় মহিউদ্দিন বাবলু  ১৪ দফা দাবিতে গাজীপুরে বিএমএসএফের র‍্যালি ও আলোচনা সভা চট্টগ্রামে মাইজভান্ডারি গবেষক আল্লামা গোলাম মোস্তফা শায়েস্তা খাঁন আজহারীর ইন্তেকাল চরবাড়ুকা, বাঘেচরা হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মানববন্ধন আনন্দবাজারে র‍্যাব-৯ এর হানা: বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ দুইজন গ্রেফতার সুনামগঞ্জ সদর থানায় এক যুবককে (একশত সত্তর) পিস কথিত নেশাজাতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট, সহ গ্রেফতার।

সেবাগ্রহীতাকে ঘরে আটকে রেখে মারধর করেন ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল হক

আবুল হোসেন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: / ১৪৮ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: মঙ্গলবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৪

আবুল হোসেন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:

৭০ বছর বয়সী আব্দুস সাত্তার একটি জমি সংক্রান্ত বিরোধের সুরাহা পেতে ছুটে যান ইউনিয়ন পরিষদে। বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পরামর্শ চান ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলামের কাছে। ক্ষিপ্ত হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান চড়াও হন বৃদ্ধ আব্দুস সাত্তারের উপর। থাপ্পড়, কিল-ঘুষি দেন বৃদ্ধ আব্দুস সাত্তারকে। গ্রাম পুলিশ সদস্যদেরকে নির্দেশ দেন ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে আটকে রাখার। এরপর অন্তত ৩ ঘন্টা ঘরে আটকে রাখা হয় ওই বৃদ্ধকে। পরে বাড়ি ফিরে অপমান সইতে না পেরে আত্মহত্যা করার কথা জানান ঘনিষ্ঠজনদের।

 

গত ৩০ নভেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়ন পরিষদে ঘটে এ ঘটনা। ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের বিচারের দাবিতে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধনে তাদের দাবি, শুধু আব্দুস সাত্তারকেই নয়, বিভিন্ন সময়ে সেবাগ্রহীতাদেরকে আটকে রেখে নির্যাতন করেন চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম। মানববন্ধনে ভুক্তভোগী বৃদ্ধ আব্দুস সাত্তার বলেন, আমি গিয়ে অভিযোগ দেয়ার পরই মারধর শুরু করে। এরপর ঘরের মধ্যে আটকে রাখে আমাকে নির্যাতন করা হয়। আমার কোন অপরাধ না থাকা স্বত্ত্বেও কোনরকম যাচাই-বাছাই না করেই বিপক্ষ লোকের কথা শুনে আমাকে এভাবে অপমান ও মারধর করা হয়। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত ও চেয়ারম্যানের বিচার দাবি করছি। আব্দুস সাত্তারের ছেলে আমার শহিদুল ইসলাম জানান, বাবা বাড়িতে এসেও কিছু বলতে চায়নি। পরে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আত্মহত্যা করবে বলে জানায়। অনেক বুঝিয়ে শান্ত করলেও হঠাৎ করেই মধ্যরাতে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করা হয়। বাবা এমন ঘটনায় চরম অপমান হয়েছেন ও কষ্ট পেয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, গত ৩-৪ মাস আগেও ষাটোর্ধ আব্দুল লতিবকে একইভাবে আটকে রাখেন চেয়ারম্যান। এসব ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করে বিচারের দাবি ভুক্তভোগীদের।

 

এনিয়ে আব্দুল লতিব বলেন, কোন কথা শুনে হঠাৎ করেই আমাকে ঘরে বন্দি করার নির্দেশ দেন। দীর্ঘ সময় আটকে রাখার পর জরিমানা আদায় করে ছাড়া হয়। ঘরে আটকে রেখে মারধরের কথা স্বীকার করেন নেজামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম। তবে জনপ্রতিনিধি হয়েও সেবাগ্রহীতাকে মারধরের বিষয়ে নিজের অপরাধের কথা অস্বীকার করেন তিনি। চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, বারবার বলার পরেও অন্যায় কাজ করায় তার গায়ে হাত দিয়েছি ও জরিমানার টাকা আদায় করার জন্য ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর