শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৫ পূর্বাহ্ন

৪৯তম বিসিএস ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত রনি হোসেনের নতুন কর্মস্থলে যোগদান, কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করলেন শিক্ষক-বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের

মিজানুর রহমান, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি : / ২৩ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬

৪৯তম বিসিএস ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত রনি হোসেনের নতুন কর্মস্থলে যোগদান, কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করলেন শিক্ষক-বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের

মিজানুর রহমান, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি:জীবনের প্রতিটি সফলতার পেছনে থাকে অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা, সহযোগিতা, ত্যাগ ও দোয়া। সেই সফলতার প্রকৃত আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন মানুষ তার পাশে থাকা প্রত্যেকের অবদান কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে। তেমনই এক আবেগঘন অনুভূতি প্রকাশ করেছেন ৪৯তম বিসিএস ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত রনি হোসেন।

৪৯তম বিসিএস ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত রনি হোসেন বর্তমানে প্রভাষক (হিসাববিজ্ঞান) হিসেবে বকশীগঞ্জ সরকারি কিয়ামত উল্লাহ কলেজ, বকশীগঞ্জ, জামালপুরে যোগদান করেছেন। তাঁর এই নতুন কর্মস্থলে যোগদান পরিবার, শিক্ষক, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি সৃষ্টি করেছে।

নিজের অর্জনকে একক সফলতা হিসেবে না দেখে জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ পথচলায় পাশে থাকা শিক্ষক, বড় ভাই, বন্ধু, সহপাঠী, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে মহান আল্লাহর প্রতি অশেষ শুকরিয়া আদায় করে নিজের অনুভূতি তুলে ধরেছেন আবেগঘন ভাষায়।

রনি হোসেন তাঁর অনুভূতিতে বলেন, “আমি কীভাবে শুকরিয়া আদায় করব সেই স্কুল, কলেজ ও কোচিংয়ের স্যারদের প্রতি, যারা আমাকে স্বপ্নের পথে হাঁটতে শিখিয়েছেন। কীভাবে শুকরিয়া আদায় করব সেই বড় ভাইয়ের প্রতি, যিনি ছায়ার মতো আমার পরিবার ও আমার পাশে থেকেছেন।

কীভাবে শুকরিয়া আদায় করব বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ ডিপার্টমেন্টের সেই প্রিয় শিক্ষকের প্রতি, যিনি অনেক সম্মানিত অধ্যাপক হওয়া সত্ত্বেও আমার মতো নগণ্য একজনের বিপদে এগিয়ে এসেছেন। কীভাবে শুকরিয়া আদায় করব আমার প্রিয় সেই ভাইয়ের প্রতি, যিনি সবসময় আমাকে দোয়ায় রাখেন, সঙ্গে থাকেন।

কীভাবে শুকরিয়া আদায় করব সেই কাছের বন্ধুদের প্রতি, যারা নিজেদের প্রয়োজনের অর্থ থেকেও আমাকে ধার দিয়ে সাহায্য করেছেন। কীভাবে শুকরিয়া আদায় করব সেই ডিপার্টমেন্টের বন্ধু ও গ্রুপমেটদের প্রতি, যারা বিবিএ-এমবিএর পড়াশোনার চাপ সামলে আমার প্রস্তুতির সময় পাশে থেকেছেন।

কীভাবে শুকরিয়া আদায় করব সেই আত্মীয়স্বজন, সিনিয়র ভাই ও বন্ধু-বান্ধবদের প্রতি, যারা সবসময় বিভিন্নভাবে আমার উপকার করেছেন, আমার ভালো চেয়েছেন এবং দোয়া ও সহযোগিতা দিয়ে পাশে থেকেছেন।

আর যদি মানুষের শুকরিয়াই আদায় করতে না পারি, তাহলে কীভাবে শুকরিয়া আদায় করব মহান রব্বুল আলামিনের প্রতি, যিনি এসবকিছুই করেছেন, করিয়েছেন এবং আমাকে এত বড় নিয়ামত দান করেছেন।

রনি হোসেনের এই অনুভূতিতে উঠে এসেছে জীবনের প্রতিটি অর্জনের পেছনে থাকা মানুষের অবদান স্বীকার করার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তাঁর কাছে ৪৯তম বিসিএস ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া শুধু একটি চাকরি বা ক্যারিয়ার অর্জন নয়, বরং এটি অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা, সহযোগিতা, ত্যাগ ও দোয়ার সম্মিলিত ফল।

নতুন কর্মস্থলে যোগদানের মধ্য দিয়ে তাঁর পেশাগত জীবনে যুক্ত হলো নতুন অধ্যায়। শিক্ষকতা পেশায় নিজের মেধা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীদের।

রনি হোসেনের এই কৃতজ্ঞতাবোধ নতুন প্রজন্মের জন্যও একটি অনুকরণীয় বার্তা—জীবনে যত বড় অর্জনই আসুক, সেই অর্জনের পেছনে যাঁরা ভালোবাসা ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, তাঁদের কখনো ভুলে যাওয়া উচিত নয়। মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায়ই হোক প্রতিটি সফলতার প্রকৃত সৌন্দর্য।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর