বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৯ পূর্বাহ্ন
আজকের শিরোনাম
বাকেরগঞ্জে এআই প্রযুক্তিতে ভিডিও তৈরি করে অপপ্রচারের অভিযোগ রাউজানে এয়াছিন নগরে চিশতিয়া মঞ্জিলে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নাবী (দঃ) উৎযাপিত রাজশাহীর মোহনপুরে র‍্যাবের অভিযানে ৪৫ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার, পালাল তিনজন শ্রীবরদীতে হেরোইন সেবন ও বিক্রির অপরাধে তিনজনের কারাদণ্ড সিংড়ায় ছাত্রদল নেতা কাজলের সঙ্গে একাধিক নারীর ছবি ভাইরাল, ‘এআইয়ের কারসাজি’ দাবি কাজলের বাকৃবির নবনিযুক্ত উপাচার্যকে বাংলাদেশ ফিসারিজ এক্সিকিউটিভ অ্যাসোসিয়েশন ও কৃষিবিদ আনোয়ার পারভেজের শুভেচ্ছা মেধাবী শিক্ষার্থী রিমুভ আক্তারকে সম্মাননা ও বই উপহার শ্রীবরদীতে ইউএনও মনীষা আহমেদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ভূমি অফিস পরিদর্শন উড্ডীন বিহঙ্গ বিএনপি নেতার অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংবাদ করায় মানবাধিকার নেতাকে হত্যা ও গুমের হুমকির অভিযোগ

কামড় দেওয়া রাসেলস ভাইপার নিয়ে হাসপাতালে কৃষক

অনলাইন ডেস্ক: / ২১২ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: শনিবার, ২২ জুন, ২০২৪

রাজবাড়ীর পাংশার পদ্মার চরাঞ্চলে আতঙ্কের নতুন নাম রাসেলস ভাইপার। শুক্রবার (২১ জুন) দুপুরে পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের পদ্মার চর আফরা গ্রামে মাঠ থেকে বাদাম তুলতে গিয়ে মধু বিশ্বাস নামে এক কৃষক রাসেলস ভাইপার সাপের কামড়ের শিকার হয়েছেন। তিনি এখন পাংশা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এই অবস্থায় ওই মাঠে কাজ করতে যাওয়া অন্যান্য কৃষি শ্রমিকরা তাৎক্ষণিক মাঠ থেকে পালিয়ে যায়।

এখন বাদাম তোলার ভরা মওসুমে এ সাপের ভয়ে বাদাম তোলার জন্য কোনো শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে জীবনের মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে জমির মালিকরাই বাদাম তুলছেন।

উপজেলার হাবাসপুর, বাহাদুরপুর ও কালিকাপুর ইউনিয়নের পদ্মার চরাঞ্চলে গিয়ে দেখা যায়, জেগে উঠা ধু ধু বালুচরে বাদাম তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছিলেন কিষাণ-কিষাণিরা। মধু বিশ্বাসের সাপে কাটার খবর ছড়িয়ে পরলে মাঠ থেকে সটকে পরে শ্রমিকরা। রাজবাড়ীর পদ্মার চরাঞ্চলের বেলে মাটি বাদাম চাষের জন্য খুবই উপযোগী। তবে এ বছর প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে ফলন আশানুরূপ হয়নি।

সম্প্রতি পদ্মার পানি বেড়ে গিয়ে বাদাম খেতে ঢোকায় অপরিপক্ব বাদামও তুলতে হচ্ছে। এতে পুরুষের চেয়ে নারীদেরই বেশি দেখা যায়। প্রথমে খেত থেকে বাদাম তোলা হচ্ছে, এরপর খেতেই গাছ থেকে বাদাম কাটা হচ্ছে। তারপর নৌকায় করে নদী পার হয়ে বাদাম নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বাড়িতে।

বাদাম চাষি লিটন মোল্লা জানান, বাদাম লাগানোর সময় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা মণ দরে বাদাম কিনে লাগাতে হয়েছে। বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা। বিঘায় উৎপাদন হওয়ার কথা ছিল ১০ থেকে ১৫ মণ। কিন্তু এ বছর ফলন হয়েছে ৫ থেকে ৮ মণ। দাম ভালো না পেলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তারা।

আরেক বাদাম চাষি ছালাম সেক বলেন, সম্প্রতি রাসেল ভাইপারের উপদ্রব বেড়ে গেছে। গত ছয় মাসে সাপের কামড়ে মারা গেছে পাঁচজন। আজ শুক্রবার আরও এক জনের সাপে কেটেছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই শ্রমিকরা পালিয়ে যায়। এ কারণে কৃষি শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ভয়ে কেউ খেতে নামতে চাইছে না। বাধ্য হয়ে নিজেদেরই বাদাম তুলতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের অন্যতম আয়ের উৎস বাদাম চাষাবাদ। এর ওপরই সারা বছরের সংসার খরচ চলে। সে কারণে ঝুঁকি নিয়েই বাদাম তুলতে হচ্ছে।

উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুন মিয়া বলেন, দাবদাহের কারণে এ বছর বাদাম এবং তিলের ফলন ভালো হয়নি। পাশাপাশি পদ্মার পানি বাড়ায় তীরবর্তী এলাকার বাদাম খেতে পানি ঢুকেছে। তাড়াহুড়ো করেই বাদাম তুলে ফেলতে হচ্ছে চাষিদের। এ ছাড়া আরেকটি বড় সমস্যা রাসেল ভাইপারের কারণেও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। চরাঞ্চলের বেশ কয়েকজন সাপের কামড়ে মারা যাওয়ায় অনেকে ভয়ে খেতে যেতে চাচ্ছে না। তবে ইউনিয়নব্যাপী রাসেল ভাইপারের বিষয়টি নিয়ে সবাইকে সচেতন করার চেষ্টা করছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর