সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ০৪:৩৪ অপরাহ্ন
আজকের শিরোনাম
বগুড়ায় সাংবাদিকের বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা: ঢাকা প্রেসক্লাবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ। তাহিরপুর সীমান্তে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে ৩ বাংলাদেশিকে আটক করেছে বিজিবি। গারো পাহাড়ে বন রক্ষায় মানববন্ধন: আগুন প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ব্যানার স্থাপন! ভুরুঙ্গামারীতে মানব সমাজ কল্যাণ ক্লাব’র আর্থিক সহায়তা ও ঈদ উপহার প্রদান শ্রীমঙ্গলে আব্দুল খালেকের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল—দোয়া কামনায় মিলিত সর্বস্তরের মানুষ; রাউজান প্রেস ক্লাবের উপহার বিতরণ সাংবাদিকদের মানবিক উদ্যোগ প্রশংসনীয়: সাবের সুলতান কাজল বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিডিপিএ)-কে বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শে রূপান্তরের অভিযোগ: ফ্যাসিস্ট দোসর পুনর্বাসনের অপচেষ্টা পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাকেরগঞ্জ উপজেলার বিএনপির সাবেক সদস্য জনাব এস, এম নিয়াজ মোর্শেদ ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বেস্ট ফিজিওথেরাপি হসপিটালের ডাইরেক্টর মোঃ আক্তার হোসেন উপজেলা প্রেসক্লাব ভূরুঙ্গামারী’র ইফতার মাহফিল

কামড় দেওয়া রাসেলস ভাইপার নিয়ে হাসপাতালে কৃষক

অনলাইন ডেস্ক: / ১৭৩ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: শনিবার, ২২ জুন, ২০২৪

রাজবাড়ীর পাংশার পদ্মার চরাঞ্চলে আতঙ্কের নতুন নাম রাসেলস ভাইপার। শুক্রবার (২১ জুন) দুপুরে পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের পদ্মার চর আফরা গ্রামে মাঠ থেকে বাদাম তুলতে গিয়ে মধু বিশ্বাস নামে এক কৃষক রাসেলস ভাইপার সাপের কামড়ের শিকার হয়েছেন। তিনি এখন পাংশা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এই অবস্থায় ওই মাঠে কাজ করতে যাওয়া অন্যান্য কৃষি শ্রমিকরা তাৎক্ষণিক মাঠ থেকে পালিয়ে যায়।

এখন বাদাম তোলার ভরা মওসুমে এ সাপের ভয়ে বাদাম তোলার জন্য কোনো শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে জীবনের মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে জমির মালিকরাই বাদাম তুলছেন।

উপজেলার হাবাসপুর, বাহাদুরপুর ও কালিকাপুর ইউনিয়নের পদ্মার চরাঞ্চলে গিয়ে দেখা যায়, জেগে উঠা ধু ধু বালুচরে বাদাম তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছিলেন কিষাণ-কিষাণিরা। মধু বিশ্বাসের সাপে কাটার খবর ছড়িয়ে পরলে মাঠ থেকে সটকে পরে শ্রমিকরা। রাজবাড়ীর পদ্মার চরাঞ্চলের বেলে মাটি বাদাম চাষের জন্য খুবই উপযোগী। তবে এ বছর প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে ফলন আশানুরূপ হয়নি।

সম্প্রতি পদ্মার পানি বেড়ে গিয়ে বাদাম খেতে ঢোকায় অপরিপক্ব বাদামও তুলতে হচ্ছে। এতে পুরুষের চেয়ে নারীদেরই বেশি দেখা যায়। প্রথমে খেত থেকে বাদাম তোলা হচ্ছে, এরপর খেতেই গাছ থেকে বাদাম কাটা হচ্ছে। তারপর নৌকায় করে নদী পার হয়ে বাদাম নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বাড়িতে।

বাদাম চাষি লিটন মোল্লা জানান, বাদাম লাগানোর সময় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা মণ দরে বাদাম কিনে লাগাতে হয়েছে। বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা। বিঘায় উৎপাদন হওয়ার কথা ছিল ১০ থেকে ১৫ মণ। কিন্তু এ বছর ফলন হয়েছে ৫ থেকে ৮ মণ। দাম ভালো না পেলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তারা।

আরেক বাদাম চাষি ছালাম সেক বলেন, সম্প্রতি রাসেল ভাইপারের উপদ্রব বেড়ে গেছে। গত ছয় মাসে সাপের কামড়ে মারা গেছে পাঁচজন। আজ শুক্রবার আরও এক জনের সাপে কেটেছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই শ্রমিকরা পালিয়ে যায়। এ কারণে কৃষি শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ভয়ে কেউ খেতে নামতে চাইছে না। বাধ্য হয়ে নিজেদেরই বাদাম তুলতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের অন্যতম আয়ের উৎস বাদাম চাষাবাদ। এর ওপরই সারা বছরের সংসার খরচ চলে। সে কারণে ঝুঁকি নিয়েই বাদাম তুলতে হচ্ছে।

উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুন মিয়া বলেন, দাবদাহের কারণে এ বছর বাদাম এবং তিলের ফলন ভালো হয়নি। পাশাপাশি পদ্মার পানি বাড়ায় তীরবর্তী এলাকার বাদাম খেতে পানি ঢুকেছে। তাড়াহুড়ো করেই বাদাম তুলে ফেলতে হচ্ছে চাষিদের। এ ছাড়া আরেকটি বড় সমস্যা রাসেল ভাইপারের কারণেও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। চরাঞ্চলের বেশ কয়েকজন সাপের কামড়ে মারা যাওয়ায় অনেকে ভয়ে খেতে যেতে চাচ্ছে না। তবে ইউনিয়নব্যাপী রাসেল ভাইপারের বিষয়টি নিয়ে সবাইকে সচেতন করার চেষ্টা করছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর