রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ০৮:২৬ অপরাহ্ন
আজকের শিরোনাম
তাহিরপুর সীমান্তে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে ৩ বাংলাদেশিকে আটক করেছে বিজিবি। গারো পাহাড়ে বন রক্ষায় মানববন্ধন: আগুন প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ব্যানার স্থাপন! ভুরুঙ্গামারীতে মানব সমাজ কল্যাণ ক্লাব’র আর্থিক সহায়তা ও ঈদ উপহার প্রদান শ্রীমঙ্গলে আব্দুল খালেকের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল—দোয়া কামনায় মিলিত সর্বস্তরের মানুষ; রাউজান প্রেস ক্লাবের উপহার বিতরণ সাংবাদিকদের মানবিক উদ্যোগ প্রশংসনীয়: সাবের সুলতান কাজল বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিডিপিএ)-কে বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শে রূপান্তরের অভিযোগ: ফ্যাসিস্ট দোসর পুনর্বাসনের অপচেষ্টা পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাকেরগঞ্জ উপজেলার বিএনপির সাবেক সদস্য জনাব এস, এম নিয়াজ মোর্শেদ ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বেস্ট ফিজিওথেরাপি হসপিটালের ডাইরেক্টর মোঃ আক্তার হোসেন উপজেলা প্রেসক্লাব ভূরুঙ্গামারী’র ইফতার মাহফিল সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণ, ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত;

আন্দোলনে নিহতের ৩৬ দিন পর বাবা হলেন রুবেল

অনলাইন ডেস্ক: / ১৫৭ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: মঙ্গলবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গত ৪ আগস্ট কুমিল্লার দেবিদ্বারে গুলিতে নিহত উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আবদুর রাজ্জাক রুবেলের স্ত্রী ছেলে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। গতকাল সোমবার রাতে উপজেলা সদরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে সন্তানের জন্ম দেন হ্যাপী আক্তার।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নবজাতক ও তার মা সুস্থ আছেন। নিহত আবদুর রাজ্জাক রুবেল দরিদ্র ছিলেন। বাস চালিয়ে সংসার চালাতেন তিনি। তার অকাল মৃত্যু এবং সন্তানের জন্মের পর পুরো পরিবার এখন দিশেহারা।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আবদুর রাজ্জাক রুবেল ছিলেন তার বাবা মায়ের একমাত্র ছেলে। বাবার মৃত্যুর পর রুবেলই পরিবারে হাল ধরেছিল। বিয়ে করেন হ্যাপী আক্তারকে। তাদের ৬ বছরের আরও একটি মেয়ে আছে।

রুবেলকে হারিয়ে গত একমাস ধরে দুর্বিষহ জীবন পার করছে তার পরিবার। অবশেষে পুত্র সন্তানের জন্ম হওয়ায় পরিবারে আশার আলো জেগে ওঠে।

নিহত রুবেলের বৃদ্ধা মা হোসনেয়ারা বেগম নাতিকে কোলে নিয়ে কাঁদছেন। গণমাধ্যম কর্মীদের দেখে তিনি বলেন, ‘বাবারে আমার ছেলে আজ বেঁচে থাকলে অনেক খুশি হইতো। কপাল পোড়া নাতিটা জন্মের পর তার বাবার মুখ দেখতে পারল না। বড় হয়ে বাবাকে খুঁজলে আমি কী জবাব দেব?’

রুবেলের স্ত্রী হ্যাপী আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামীর ইচ্ছে ছিল ছেলে সন্তান হলে রাইয়ান নাম রাখবেন। নাম রাইয়ানই রাখা হয়েছে। আমার একটি সুখী পরিবার ছিল, একটি গুলিতে নিভে গেল সব। সন্তানের মুখ যেতে পারল না তার বাবা। আমার স্বামীর কি অপরাধ ছিলো তাকে কেন ঘাতকরা গুলি করে মারল?’

এদিকে রুবেলের স্ত্রীর সিজার অপারেশন ও ওষুধপত্রের যাবতীয় দায়িত্ব নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামী দেবিদ্বার উপজেলা শাখা।

কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের জন্য শহীদ রুবেলের আত্মত্যাগ বিফলে যায়নি। তার আত্মত্যাগের বিনিময়ে একটি স্বৈরাচারী হাসিনার পতন হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী চেষ্টা করেছে শহীদ রুবেলের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর। এরই অংশ হিসেবে তার স্ত্রীর সিজার অপারেশন ও ওষুধপত্রের যাবতীয় খরচ বহন করেছে।’

প্রসঙ্গত, আন্দোলন চলাকালে গত ৪ আগস্ট দেবিদ্বার উপজেলা সদরে ছাত্র জনতার ওপর আক্রমণ চালায় আওয়ামী লীগের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা। সেসময় দেবিদ্বার আজগর আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে সন্ত্রাসীরা পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুর রাজ্জাক রুবেলকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার করে। এ ঘটনায় পরিবার ও দলীয়ভাবে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। নিহত রুবেল দেবিদ্বার পৌরসভার বারেরা গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর