বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০২:৩২ পূর্বাহ্ন
আজকের শিরোনাম
সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন মৌলভীবাজারে মতবিনিময় সভা ও আহ্বায়ক ক‌মি‌টি গঠন টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের জায়গা পরিদর্শনে সিলেট-২ এর সাংসদ তাহসিনা রুশদীর লুনা সরকারের দেওয়া উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হবে : এমপি লুনা তাহিরপুরে ৪২ পিস ইয়াবা,নগদ টাকা, মোটরসাইকেলসহ ১জন আটক। জগন্নাথপুর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় মহিউদ্দিন বাবলু  ১৪ দফা দাবিতে গাজীপুরে বিএমএসএফের র‍্যালি ও আলোচনা সভা চট্টগ্রামে মাইজভান্ডারি গবেষক আল্লামা গোলাম মোস্তফা শায়েস্তা খাঁন আজহারীর ইন্তেকাল চরবাড়ুকা, বাঘেচরা হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মানববন্ধন আনন্দবাজারে র‍্যাব-৯ এর হানা: বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ দুইজন গ্রেফতার সুনামগঞ্জ সদর থানায় এক যুবককে (একশত সত্তর) পিস কথিত নেশাজাতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট, সহ গ্রেফতার।

শেরপুরের কৃতি সন্তান মেধাবী মো:রিফাত আহমেদ এখন বিসিএস ক্যাডার।

মিজানুর রহমান, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি: / ১০৭ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: মঙ্গলবার, ৮ জুলাই, ২০২৫

মিজানুর রহমান, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি:

গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার কাকিলাকুড়া ইউনিয়নের মলামারী গ্রামে জনাব রিফাত আহমেদ ১৯৯০ সনে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছেন।

তারা তিন ভাইয়ের মধ্যে রিফাত আহমেদ দ্বিতীয় সন্তান। তাদের পরিবারকে শিক্ষক পরিবার বলা যায়। তারা একই পরিবারের ৫ জন শিক্ষক। পিতা মো. রুহুল আমিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে ২০২৩ সনে অবসর গ্রহণ করেন। তার স্ত্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা, বড় ভাই বেসরকারি কলেজের শিক্ষক এবং বড় ভাইয়ের স্ত্রী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। তার ছোট ভাই একটি বেসরকারি চাকরিরত।

বর্তমানে জনাব রিফাত আহমেদ সহকারী অধ্যাপক, (রসায়ন)হিসেবে শ্রীবরদী সরকারি কলেজে কর্মরত রয়েছেন। তিনি ৩৩ তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২০১৪ সনের ৭ আগষ্ট অত্র কলেজে যোগদান করেন।

শৈশবের সোনালী দিনগুলো কেটেছে তার গ্রামেই। মাঝে মাঝেই নানার বাড়ি পলাশতলায়ও কেটেছে অনেকটা সময়। ছোট থেকেই সে খুব দুরন্ত এবং জেদী ছিল। তার মা সন্তানদেরকে যথা সম্ভব খেয়াল রাখতেন, যত্ন নিতেন এবং পরিপাটি রাখতেন।

আর তার বাবা সকালে প্রায় ১৪ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে চাকরিতে যেতেন এবং ফিরতেন একেবারে বিকেলে। এত পরিশ্রমের পরেও বিকেলে এসে পরদিন সকাল পর্যন্ত সন্তানদের পড়াশোনার যত্ন নিতেন, নিজেই পড়াতেন এবং খুব সুন্দর করে বাবা বলে ডেকে কোলে তুলে নিতেন। এভাবে আদর করে করে সন্তানদের তিনি প্রকৃত শিক্ষা দিতে চেয়েছেন যার প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী।

একবার তো এক মিস্ত্রি রিফাত আহমেদের ছোট বেলার জেদী আচরণ দেখে বলেছিল যে, বাবুল (রিফাতের বাবার ডাক নাম) দেখো এ ছেলে তোমার জরিমাণা লাগাবে। তার বাবা এ বিষয়টিকে সেভাবে না ভেবে ইতিবাচক ভেবেছিলেন। উনি ছেলের জেদটাকে মেধা হিসেবে ভেবে এটাকে নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন এবং সফলও হয়েছিলেন।

জনাব রিফাত আহমেদের বড় ভাইয়ের সাথে বয়সের পার্থক্য প্রায় পাঁচ বছর এবং ছোট ভাইয়ের সাথে প্রায় দশ বছর। তাদের ভাইয়ে ভাইয়ে কখনো মারামারি বা ঝগড়া গ্রামের কারোর চোখে পড়ে নি। গ্রামে একত্রিত হলে এখনো বড় ভাই-ছোট ভাইসহ একসাথে গ্রামে হাঁটেন যা দেখে প্রতিবেশিরা বলেন যে তোদেরকে দেখে ভাই নয়, বন্ধুর মতো লাগে।

ছোট বেলা থেকেই তার পড়া শেখার প্রতি প্রচন্ড আগ্রহ ছিল। বিদ্যালয় থেকে ফিরে না খেয়েই খুব দ্রুত পড়া কভার করে তড়িঘড়ি করে খেয়ে দৌড় দিতেন খেলতে যাবার জন্য। খেলা বলতে ছিল আঞ্চলিক ভাষায় ছি-ছাত্তা, গোলাপ পাড়ি, পাতা কুড়ানো, রেডি-রেডি (দাড়িয়াবান্ধা), জাম্বুরাকে ফুটবল বানিয়ে খেলা, গাছে উঠে বন্ধুরা মিলে বসে থাকা বা শুয়ে থাকা ইত্যাদি।

ঠিক সন্ধ্যা পর্যন্ত খেলা শেষে বাড়ি ফিরে হারিকেন পরিষ্কার করে হাত-মুখ ধুয়ে এসে হারিকেনের আলোয় পড়তে বসতেন। রাত ৯ টার মধ্যে তার বাবা সন্তানদেরকে ঘুমানোর নির্দেশ দিতেন। যেহেতু শৈশবটা কেটেছে খেলাধুলার পাগলামো নিয়ে তাই মাঝে মাঝেই রাতকে তার অনেক বড় মনে হতো! ঘুম ভেঙে যেতো ভোর ৩টা-৪টার দিকে! কখন আসবে সকাল, কখন ফুটবে দিনের আলো যেন আবারো বিদ্যালয়ে যাওয়া যায়, খেলাধুলা শুরু করা যায়। এভাবেই কেটেছে তার সুন্দর শৈশব।

তার গ্রামে কাকিলাকুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ার সময় প্রায় সময়ই তিনি পুরো বিদ্যালয়ে প্রথম হতেন। ২০০৫ সালে এস এস সি পরীক্ষায় অংশ নেন এবং সে বছর তিনি একাই পুরো থানায় জিপিএ ৫ পেয়েছিলেন।

এরপর ভর্তির সুযোগ পান ঢাকার তেজগাঁওয়ে বি এ এফ শাহীন কলেজে। ক্লাস করাও শুরু করেছিলেন সেখানে। কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই কেন যেন তিনি শহরের জীবনের প্রতি অনাগ্রহী হয়ে উঠেছিলেন। তার মনের অবস্থাটা শেয়ার করলে তার বাবা তাকে বরাবরের মতোই নিজের সিদ্ধান্ত নিজেকে নিতে বলেন। অর্থাৎ তার বাবা কখনো তার সন্তানদের কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত জোর করে চাপিয়ে দিতেন না বরং পাশে থাকতেন সব সময়।

তার ফুফাতো ভাই তখন গণিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে ছিলেন। তিনি কিছুদিন তাকে তার ফজলুল হক হলে নিয়ে রাখলেন। বন্ধুদেরকে দিয়ে বুঝালেন মন ভাল করে দেয়ার জন্য। কিন্তু কিছুতেই তার মন টিকল না। ফলে সে তার ভাইয়ের সহযোগিতায় ভর্তি বাতিল করে চলে আসেন গ্রামে এবং নিজ উপজেলার কলেজ যেটাতে বর্তমানে তিনি কর্মরত সেখানে ভর্তি হতে গিয়ে জানতে পারেন যে সে সময় মাত্র একজন শিক্ষার্থী বিজ্ঞান বিভাগে ছিল। কেন যেন তার এবং তার পিতার মনে হলো, এখানে যেহেতু শিক্ষার্থী নেই বললেই চলে ফলে ক্লাস না হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকতে পারে। তাই পাশের থানা বকশীগঞ্জে সরকারি কলেজে ভর্তি হলেন। সেখানে বিজ্ঞানে ২৭ জন শিক্ষার্থী ছিল।

বকশীগঞ্জ সরকারি কিয়ামত উল্লাহ কলেজে সে সময় সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া বিসিএস থেকে এক ঝাঁক তরুণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেছিলেন। তাদের যত্ন মাখা ক্লাস, প্রতি মুহূর্তের আন্তরিক পরিবেশ, সহজ সরল জীবন যাপন এবং সবকিছু জনাব রিফাত আহমেদকে মুগ্ধ করেছিল। মনে মনে তিনি ভেবেছিলেন ইশ যদি স্যারদের মতো হওয়া যেতো! মহান আল্লাহর অশেষ কৃপায় তিনি জীবনে প্রথম চান্সেই তা হতে পেরেছেন।

এইচ এস সি পাশ করে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়নে স্নাতকে ভর্তি হন। সেখানে তিনি সাফল্যের সাথে পড়াশোনা সম্পন্ন করেন।

তিনি স্নাতকোত্তরে গবেষণার সুযোগ পান এবং তার গবেষণা আমেরিকান কেমিকেল সোসাইটি কর্তৃক জার্নালে প্রকাশিত হয় যা গুগলে ‘Rifat Ahmed Research‘ লিখে সার্চ দিলেই ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ গেইট থেকে পাওয়া যায়।

চতুর্থ বর্ষ স্নাতক ফাইনাল পরীক্ষার তাত্ত্বিক পরীক্ষা চলাকালীন ৩৩ তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয় যেটাতে তিনি এপেয়ার্ড সার্টিফিকেট দিয়ে আবেদন করার সুযোগ পান। জীবনের প্রথম বিসিএসেই স্বপ্নের মতো করে তিনি মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে স্বপ্নের সে শিক্ষা ক্যাডার প্রাপ্ত হন এবং চূড়ান্তভাবে সুপারিশকৃত হয়ে স্নাতকোত্তর শেষ করার আগেই নিজ উপজেলার শ্রীবরদী সরকারি কলেজে প্রভাষক, রসায়ন হিসেবে যোগদান করেন।

অদ্যাবধি তিনি এ কলেজেই কর্মরত রয়েছেন। ইতোমধ্যে একটি পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে তিনি সহকারী অধ্যাপক। 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর