সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন
আজকের শিরোনাম
যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন: ব্রিটিশ এমপি বব ব্ল্যাকম্যান রাজশাহীতে ধানের শীষের প্রচারণায় মাঠে যুবদলের ব্যাপক গণসংযোগ রাউজানে সাবেক সাংসদ গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে প্রেস ক্লাবের নবনির্বাচিত কর্মকর্তাদের মতবিনিময় ঢাকা রিজেন্সিতে আন্তর্জাতিক বিজনেস নেটওয়ার্কিং ডিনার পার্টি ২০২৬ সম্পন্ন ভুরুঙ্গামারীতে মাকসুদা আজিজ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অর্থবৃত্তি ও সনদ প্রদান। শেরপুরে নির্বাচনী পথ সভায় প্রধান অতিথি মাহমুদুল হক রুবেল: ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিন! শেরপুরে এএসআই-এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার। বটিয়াঘাটা প্রেসক্লাবে সতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক অচিন্ত কুমার মণ্ডলের সাংবাদিক সম্মেলন। সিরাজগঞ্জ ৫ আসনের বিএনপি প্রার্থীর বেলকুচি প্রেসক্লাবে সাংবাদিক মতবিনিময়। শেরপুরে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ!

দানবাক্স নয়, মানুষের দানেই ৫ হাজারের তাবারুক—ঝিনঝি ফকির শাহ (রহঃ) মাজারে নতুন ইতিহাস।

সহকারী বার্তা সম্পাদক মোঃ মনোয়ার হোসেন সেলিম / ২২ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬

মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ২নং সাধনপুর ইউনিয়নের বৈলগাঁও এলাকায় অবস্থিত হযরত ঝিনঝি ফকির শাহ (রহঃ) মাজারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের সহিংসতা, মামলা-মোকদ্দমা ও দানবাক্সকেন্দ্রিক বিরোধের অবসান ঘটিয়ে এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বর্তমান কমিটি।
এবার আর কোনো দানবাক্স নয়, রাস্তার কালেকশনও নয়—সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে আয়োজন করা হয় প্রায় ৫ হাজার মানুষের তাবারুক। এই ব্যতিক্রমী আয়োজন এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, এই মাজারকে কেন্দ্র করে অতীতে দানবাক্সের টাকা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ভাঙচুর এবং দীর্ঘস্থায়ী আইনি জটিলতা তৈরি হয়। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়েছিল যে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও বিভক্তি সৃষ্টি হয়।
বর্তমান কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর সাধারণ মানুষের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়—মাজারে আর কোনো দানবাক্স থাকবে না। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেই এবারের ওরশ উপলক্ষে আয়োজন করা হয় বৃহৎ তাবারুক বিতরণ।
এই আয়োজনে মুসলিম সম্প্রদায়ের পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন,
“দানবাক্সকে কেন্দ্র করেই এতদিন ঝগড়া-ফ্যাসাদ ছিল। এবার দানবাক্স ছাড়া আয়োজন করে প্রমাণ করা হয়েছে—ইমান ও বিশ্বাস টাকা দিয়ে নয়, মানুষের মন দিয়েই গড়ে ওঠে।”
বর্তমান কমিটির একজন সদস্য জানান,
“আমরা চেয়েছি মাজার যেন আর ব্যবসার জায়গা না হয়। স্বচ্ছতা থাকলে মানুষ এমনিতেই পাশে দাঁড়ায়—এই আয়োজন তার প্রমাণ।”
এলাকাবাসীর মতে, এই উদ্যোগ শুধু একটি সফল আয়োজনই নয়, বরং ভবিষ্যতে মাজারকেন্দ্রিক সহিংসতা বন্ধের পথও দেখিয়েছে। দানবাক্সবিহীন এই আয়োজন এখন বাঁশখালীজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর