বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ন
আজকের শিরোনাম
ইসরা ও মেরাজের স্মৃতিতে ইবাদতে মুখর মুসলিম বিশ্ব ‎সুনামগঞ্জ শহরে  অজ্ঞাত ব্যাক্তির গলিত দু*র্গন্ধ  মরাদেহ নিজ হাতে উদ্ধার করলেন ওসি রতন সেখ (পিপিএম) জামায়াত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দীর বটিয়াঘাটায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত, ‎সুনামগঞ্জ পৌর শহরের কালিপুর গ্রামে পুলিশের অভিযানে ১৮ বোতল ভারতীয় মদসহ- ১জন গ্রেফতার বাঁশখালীতে সেনাবাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযানে ১ হাজার ইয়াবাসহ নারী গ্রেপ্তার, স্বামী পলাতক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাঁশখালীতে কঠোর নিরাপত্তা পরিকল্পনা দিনাজপুর-৪ আসনে জনপ্রিয়তার শীর্ষে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আক্তারুজ্জামান মিয়া ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারে ধানের শীষের বিজয় অপরিহার্য: গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ- রাউজানে নির্বাচনী প্রচারণায় গিয়াস কাদের চৌধুরী যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন: ব্রিটিশ এমপি বব ব্ল্যাকম্যান

ইসরা ও মেরাজের স্মৃতিতে ইবাদতে মুখর মুসলিম বিশ্ব

জিয়াউল ইসলাম জিয়া বার্তা সম্পাদক / ১ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

আওরঙ্গজেব কামাল :

আজ পবিত্র লাইলাতুল মেরাজ বা শবে মেরাজ। ইসলাম ধর্মের ইতিহাসে এক অনন্য ও তাৎপর্যপূর্ণ এই রাতটি গভীর শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও ইবাদতের মাধ্যমে পালন করছেন দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতকে ‘শবে মেরাজ’ বলা হয়।

শবে মেরাজ কথাটি আরবি থেকে এসেছে। শবে মানে রাত, মেরাজ মানে ‘ঊর্ধ্ব গমন’; শবে মেরাজ অর্থ ‘ঊর্ধ্ব গমনের রাত’।শবে মেরাজ মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনের এক অলৌকিক ও গৌরবময় অধ্যায়। এ মহিমান্বিত রাতেই মুসলমানদের জন্য ফরজ করা হয় সালাত বা নামাজ এবং প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের বিধান নিয়ে উম্মতের কাছে প্রত্যাবর্তন করেন প্রিয় নবী (সা.)। ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী, নবুওয়াতের দশম বর্ষে তথা ৬২১ খ্রিষ্টাব্দে এক রাতে মহানবী (সা.) মক্কার কাবা শরিফ থেকে পবিত্র বাইতুল মুকাদ্দাস বা মসজিদুল আকসায় গমন করেন। সেখানে তিনি পূর্ববর্তী নবীদের জামায়াতে ইমামতি করেন।

এই অংশটিকে পবিত্র কুরআনে ‘ইসরা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এরপর বিশেষ বাহন ‘বুরাক’-এ আরোহণ করে তিনি সপ্তম আকাশ অতিক্রম করে মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে উপনীত হন—যা ‘মেরাজ’ নামে পরিচিত। এ অলৌকিক সফরে তার সঙ্গী ছিলেন ফেরেশতাদের সরদার হযরত জিবরাইল (আ.)। মেরাজের পথে মহানবী (সা.) ‘সিদরাতুল মুনতাহা’, বেহেশতের নদীসমূহ এবং ফেরেশতাদের জন্য নির্ধারিত ইবাদতকেন্দ্র ‘বায়তুল মা’মুর’ পরিদর্শন করেন। সর্বশেষ তিনি আল্লাহ তায়ালার দিদার লাভ করেন—যা মানব ইতিহাসে এক অতুলনীয় ঘটনা।এই পবিত্র রাতে আল্লাহর রহমত, মাগফিরাত ও নৈকট্য লাভের আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মসজিদে-মসজিদে নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার ও দোয়া-মোনাজাতে মশগুল থাকেন।

অনেকেই নিজ নিজ ঘরে কিংবা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ইবাদতের মাধ্যমে রাতটি অতিবাহিত করেন। শবে মেরাজ মুসলমানদের জন্য শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং আত্মশুদ্ধি, আল্লাহভীতি ও নামাজের গুরুত্ব স্মরণ করার এক গভীর উপলক্ষ—যা বিশ্বাসীদের হৃদয়ে আলো জ্বালিয়ে দেয়। শবে মেরাজের সবচেয়ে বড় ফজিলত হলো—(১) শবে মেরাজ হলো নামাজ ফরজ হওয়ার রাত। শবে মেরাজের সবচেয়ে বড় ফজিলত হলো—এই রাতেই মুসলমানদের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয়। নামাজই একমাত্র ইবাদত, যা মহান আল্লাহর কাছে সরাসরি নির্ধারিত এবং মেরাজের মাধ্যমে উম্মতের জন্য উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে।(২) আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের সম্মান এটা একটা বিশ্বব্যাপী সন্মানিত ঘটনার মধ্যে অন্যতম। মেরাজের রাতে মহানবী (সা.) আল্লাহ তায়ালার সান্নিধ্যে উপনীত হন, যা মানবজাতির ইতিহাসে এক অনন্য ঘটনা।

এর মাধ্যমে মানুষের মর্যাদা ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের গুরুত্ব স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়।(৩) মেরাজের ঘটনা বিশ্বাসীদের ইমানকে সুদৃঢ় করে। যুক্তির ঊর্ধ্বে এই অলৌকিক সফর আল্লাহর কুদরত ও রাসুল (সা.)-এর সত্যতা সম্পর্কে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করে।(৪) এই পবিত্র রাতে আল্লাহ তায়ালা বান্দার তাওবা কবুল করেন এবং ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের গুনাহ মাফ করেন বলে হাদিস ও ইসলামী ব্যাখ্যায় উল্লেখ রয়েছে। তাই শবে মেরাজ তাওবা ও আত্মশুদ্ধির এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।(৫) শবে মেরাজে করা দোয়া আল্লাহ তায়ালা বিশেষভাবে কবুল করেন বলে বিশ্বাস করা হয়। এই রাতে আল্লাহর কাছে ক্ষমা, হেদায়েত ও কল্যাণ কামনা করার গুরুত্ব অপরিসীম।(৬) মেরাজের সফরে নবী (সা.) জান্নাত ও জাহান্নামের বিভিন্ন নিদর্শন প্রত্যক্ষ করেন। এর মাধ্যমে মানুষকে সৎকাজে উৎসাহিত করা এবং অসৎ কাজ থেকে সতর্ক করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।(৭) উম্মতের প্রতি নবীর ভালোবাসার নিদর্শন।

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সংখ্যা প্রথমে পঞ্চাশ থেকে কমিয়ে পাঁচ করা হলেও সওয়াব পঞ্চাশের সমান রাখা হয়—যা মহানবী (সা.)-এর উম্মতের প্রতি গভীর ভালোবাসা ও আল্লাহর অসীম রহমতের প্রমাণ।(৮) আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের অনুপ্রেরণা শবে মেরাজ মুসলমানদের জন্য আত্মসমালোচনা, তাকওয়া অর্জন এবং নিয়মিত ইবাদতে ফিরে আসার অনুপ্রেরণা জোগায়।
শবে মেরাজ উপলক্ষে বিশেষ কোনো আমলের কথা শরীয়তে উল্লেখ করা হয়নি। তারপরও এ রাতে ধর্মপ্রাণ মানুষ বিশেষ ইবাদত বন্দেগিতে লিপ্ত থাকতে পছন্দ করেন। বিশেষত এ রাতকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মসজিদে কিংবা বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠানের আয়োজন করার প্রথা বহুদিন যাবত্ চলে আসছে। অনেকে এ উপলক্ষে নফল রোজা রাখেন। তাসবীহ-তাহলীল পাঠ করেন।দুই রাকাতের নিয়তে কমপক্ষে ১২ রাকাত নফল নামাজ আদায় করতে হয়।

তাছাড় ও আপনি বিভিন্ন নফল ইবাদাতসহ আর বেশি বেশি নফল নামাজ আদায় করতে পারেন। তবে মনে রাখবেন এশার নামাজ আদায় করারা সময় তিন রাকাত বিতির নামাজ আদায় করা যাবে না। এই তিন রাকাত নামাজ আদায় করবেন সকল নফল নামাজের পর। শবে মেরাজের নিয়ত অন্যান্য নফল নামাজের মতই এই নামাজের নিয়ত করবেন।আল্লাহ সকল কে আমল করার তৌফিক দান করুন।

লেখক ও গবেষকঃ
আওরঙ্গজেব কামাল
সভাপতি
ঢাকা প্রেস ক্লাব ও আন্তর্জাতিক প্রেস ক্লাব


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর