নিজস্ব প্রতিবেদক:
বানারীপাড়া পৌর শহরে ১৯৬৭-৬৮ সালের ৫০ বিপি নং মোকদ্দমার আদেশে খাস হিসেবে চিহ্নিত হওয়া একটি সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর বানারীপাড়া সদর ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, তাঁর যোগসাজশে প্রভাবশালী একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাস জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে।
জানা গেছে, উক্ত তফসিলভুক্ত সম্পত্তির রেকর্ডীয় মালিক ছিলেন শচীন্দ্রনাথ ঘোষ। তিনি পরিবারসহ ১৯৬৫ সালের পূর্বেই দেশত্যাগ করেন। পরবর্তীতে সহকারী কমিশনার (ভূমি), বানারীপাড়া কার্যালয় থেকে জমির বিপরীতে কোনো রাজস্ব আদায় না হওয়ায় মালিকের সন্ধানে নোটিশ জারি করা হয়। মালিক বা তাঁর কোনো ওয়ারিশের সন্ধান না মেলায় ১৯৬৭-৬৮ সালে ৫০ বিপি নং মোকদ্দমার আদেশে সম্পত্তিটি খাস হিসেবে চিহ্নিত হয়।
এ ঘটনায় বন্দর বাজারের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইদ্রিস মল্লিক বাদী হয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ভূমিদস্যু দীপু মাঝি ও ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমানের যোগসাজশে জাল ওয়ারিশ সনদ তৈরি করে ‘গান্ধী লাল দে’ নামের এক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে শচীন্দ্রনাথ ঘোষের ভাগিনা পরিচয় দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বানারীপাড়া মৌজার জেল নং ৪২, এসএ খতিয়ান নং ৫১৪/৫১৫ এবং হাল দাগ নং ৪৪৪/৪৪১/৪৪২/৪৪৩-এ মোট ৩৯, ২৮ ও ১৪ শতাংশ জমি মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে নামজারি করা হয়েছে।
এছাড়া, মৃত সেকেন্দার আলীর পুত্র আবুল কালাম আজাদও একই বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বানারীপাড়ার এক স্থায়ী বাসিন্দা দাবি করেন, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাস জমি আত্মসাতের অপচেষ্টা চলছে। অভিযুক্তদের মধ্যে স্থানীয় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ মৃধা, পৌর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল আলম রিপন এবং কথিত ভূমিদস্যু কামরুল হাসান দীপু মাঝীর নামও উঠে এসেছে।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।