আমির হোসাইন স্টাফ রিপোর্টারঃ
প্রাকৃতিক সম্পদ ও নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে ভরপুর, হাওর বেষ্টিত ভাটির জনপদ হিসেবে পরিচিত সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে জেলার অন্যতম পর্যটন এলাকা। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ এই উপজেলায় রয়েছে পাহাড়, নদী, হাওর ও পর্যটনকেন্দ্রের সমাহার।
তাহিরপুর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বাদাঘাট বাজার, যা জেলার ১২ উপজেলার মধ্যে অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ ব্যবসা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এই বাজারকে কেন্দ্র করে আশপাশের তাহিরপুর সদর, উত্তর শ্রীপুর, বড়দল উত্তর, বড়দল দক্ষিণ ও বাদাঘাটসহ কয়েকটি ইউনিয়নের কয়েক লক্ষাধিক মানুষ প্রতিদিন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাবেচা করতে এখানে আসেন।
শুধু তাই নয়, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও বাদাঘাট বাজারে অনেক নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম জেলা সদরের চেয়েও কম। এমনকি কিছু পণ্য রয়েছে, যা জেলা সদর ছাড়া অন্য কোথাও সহজে পাওয়া যায় না, সেগুলোও এই বাজারে পাওয়া যায়।
এছাড়াও উপজেলার সীমান্তবর্তী উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নে রয়েছে বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলী (বীরেন্দ্রনগর) নামে তিনটি শুল্ক স্টেশন। এসব শুল্ক স্টেশন থেকে সরকার প্রতি বছর কয়েকশ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে থাকে। কিন্তু অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এসব শুল্ক স্টেশন, পর্যটন স্পট ও বাদাঘাট বাজারে এখনো প্রত্যাশিত উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, তাহিরপুর উপজেলা প্রাকৃতিক সম্পদ ও পর্যটনের দিক থেকে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এলাকা। দেশ-বিদেশ থেকে আগত পর্যটকদের এই এলাকার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে যাতায়াত এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বাদাঘাট বাজার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু একটি সেতুর অভাবে পর্যটক ও ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পর্যটন ও ব্যবসায়িক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার লক্ষ্যে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সীমান্ত নদী জাদুকাটার উপর “হযরত শাহ আরেফিন ও অদ্বৈত মৈত্রী সেতু” নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রায় সাড়ে ৭০০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৮৫ কোটি ৯৯ লাখ ৩০ হাজার ৬৭৮ টাকা। দেশের অন্যতম ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন সেতুটির নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পায়।
প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছিল আড়াই বছর। সে অনুযায়ী ২০২১ সালের জুন মাসে সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানা অজুহাতে কয়েক দফা সময় বৃদ্ধি করা হলেও আড়াই বছরের প্রকল্প এখন প্রায় ৮ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জাদুকাটা নদীর উপর নির্মাণাধীন সেতুটির বিন্নাকুলী ও গরকাটি দুই তীরের অংশের কাজ অনেকাংশে সম্পন্ন হলেও মাঝামাঝি অংশের কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি চালু না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, পর্যটক ও আমদানিকারকদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ করে চালু করা হলে তাহিরপুরের পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
এদিকে এলাকাবাসীর প্রশ্ন— স্বপ্নের এই সেতু বাস্তবায়নে আর কত বছর অপেক্ষা করতে হবে তাহিরপুরবাসীকে?