রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৯ অপরাহ্ন
আজকের শিরোনাম
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক যোগাযোগে নিরলসভাবে কাজ করছে ART খুলনায় সুপার হিরো ডি এ তায়েব, ফ্যান ক্লাবের উষ্ণ অভ্যর্থনা প্রবাসীদের মর্যাদা ও নতুন কালুরঘাট সেতুর কাজে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে: এমপি সরোয়ার আলমগীর চিকিৎসা, সাহিত্য ও ইসলামী জ্ঞানচর্চায় অনন্য ডা. মিজানুর রহমান কবি-সাহিত্যিক, ইসলামী আলোচক ও বহুমাত্রিক জ্ঞানচর্চায় উজ্জ্বল এক প্রতিভা ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নে উন্নয়নের প্রত্যয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ সালেহ আহমেদ নানিয়ারচরে আইন-শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত : অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের বার্তা টেকনাফ হ্নীলার ৫২ যুবক দুর্যোগ মোকাবিলায় স্বেচ্ছাসেবী ভূমিকার অঙ্গীকার করেন সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর গ্রামে সরকারি রাস্তা দখল, স্থাপনা নির্মাণ, জনসাধারণের চলাচলে বাধা এবং রাস্তা বন্ধের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে জরুরি প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন মাননীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং প্রিয় এলাকাবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি গাজীপুরে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির নেত্রী হামলার শিকার শাহপরীতে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৩০ হাজার ইয়াবা জব্দ

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক যোগাযোগে নিরলসভাবে কাজ করছে ART

তাড়াশ টাইমস / ২০ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬

ড. মোঃ জয়নুল আবেদীন রোজ

 

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম, তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের যোগাযোগ এবং মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রে নতুন ধরনের উদ্যোগের কথা সামনে এসেছে। এর মধ্যে আলোচিত একটি উদ্যোগ হচ্ছে ART—Analysis and Research Team।

 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে যাওয়ার পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় দলটির তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা, তাদের বক্তব্য শোনা এবং সাংগঠনিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের কাজকে ART তাদের অন্যতম প্রধান কার্যক্রম হিসেবে তুলে ধরেছে।

 

ART-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৭ মার্চ থেকে তারা শেখ হাসিনাকে যুক্ত করে দেশের বিভিন্ন সাংগঠনিক জেলার নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ধারাবাহিক ভার্চুয়াল বৈঠকের আয়োজন শুরু করে। সংগঠনটির দাবি অনুযায়ী, এ পর্যন্ত দেশের ৭৩টি সাংগঠনিক জেলার নেতা-কর্মীদের সঙ্গে এ ধরনের যোগাযোগ ও বৈঠকের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কাঠামো ঐতিহাসিকভাবেই জেলা ও মহানগরভিত্তিক বিস্তৃত। বিভিন্ন সময়ের দলীয় তথ্যের ভিত্তিতে ৭৮টি সাংগঠনিক ইউনিট এবং ৭৩টি সাংগঠনিক জেলার উল্লেখ সংবাদমাধ্যমে এসেছে। ফলে জেলা পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ধারাবাহিক যোগাযোগ দলটির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

 

ART-এর তথ্য অনুযায়ী, দলটির এই যোগাযোগ কার্যক্রম শুধু সাংগঠনিক জেলা পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। বাংলাদেশের ৩০০টি সরাসরি নির্বাচিত সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৭২টি নির্বাচনী এলাকার আওয়ামী লীগ ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতা-কর্মীদের শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে বলে ART জানিয়েছে।

 

ART-এর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব বৈঠকে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা নিজ নিজ এলাকার রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিস্থিতি, সমস্যা, অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ কর্মকৌশল সম্পর্কে বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ পান। একই সঙ্গে শেখ হাসিনাও তাদের উদ্দেশে বিভিন্ন সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন বলে সংগঠনটি জানায়। ART বলছে, এই কার্যক্রম এখনো চলমান।

 

সংগঠনটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হিসেবে সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। ART-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত বা রাজনৈতিক কারণে হয়রানির অভিযোগ করা আওয়ামী লীগপন্থী সাংবাদিকদের একটি অংশের সঙ্গে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও বক্তব্য সরাসরি তুলে ধরতে পারেন।

 

তথ্য সংগ্রহ ও তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ

 

“Analysis and Research Team”—নামটির মধ্যেই তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও গবেষণার ধারণা রয়েছে। প্রকাশ্যে পাওয়া ART-এর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রমেও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনীতি ও আওয়ামী লীগ-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পোস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

 

ART-এর নিজস্ব বর্ণনা অনুযায়ী, তাদের কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে মাঠপর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করা, স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বক্তব্য শোনা এবং বিভিন্ন এলাকার সাংগঠনিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা তৈরি করা। একটি রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও তৃণমূলের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগের ক্ষেত্রে এ ধরনের তথ্যপ্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে সংগৃহীত তথ্য কতটা প্রতিনিধিত্বশীল, কী পদ্ধতিতে তা যাচাই করা হয় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে কীভাবে ব্যবহৃত হয়—এসব বিষয়ে স্বচ্ছ ও প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতি অনুসরণ করা যেকোনো গবেষণা বা বিশ্লেষণভিত্তিক উদ্যোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

 

ART-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংগঠনটি জেলা পর্যায়ে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় তৈরিতেও ভূমিকা রাখছে। তাদের লক্ষ্য হচ্ছে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সাংগঠনিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখা এবং মাঠপর্যায়ের মতামত কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া।

 

ART-এর নেতৃত্ব সম্পর্কেও সংগঠনটির পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা ART-এর ফাউন্ডার এবং সুমন ভট্টাচার্য ও প্রবীর সরকার কো-ফাউন্ডার। তবে এই পদবি ও সাংগঠনিক কাঠামোর বিষয়ে স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রকাশ্য উৎস সীমিত হওয়ায় এ তথ্য ART-এর নিজস্ব পরিচিতি হিসেবেই বিবেচনা করা সমীচীন।

 

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে সুমন ভট্টাচার্যের বার্তা

 

সম্প্রতি ART-এর কো-ফাউন্ডার হিসেবে পরিচিত সুমন ভট্টাচার্য যুক্তরাজ্য অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি ড. জয়নুল আবেদীন রোজের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে একটি বার্তা দিয়েছেন।

 

ব্যস্ততার কারণে অনেকের টেলিফোন কল গ্রহণ করতে না পারায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন—

 

“আমরা অত্যধিক ব্যস্ততার কারণে অনেকের কল রিসিভ করতে পারি না। এর জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। সবাই বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।”

 

বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে দূরবর্তী এলাকার নেতা-কর্মীদের সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করা তুলনামূলকভাবে সহজ হয়েছে। অনলাইন বৈঠক, তথ্য সংগ্রহ এবং ডিজিটাল যোগাযোগ রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক কার্যক্রমের নতুন মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

 

ART-এর কার্যক্রমের পরিধি সম্পর্কে সংগঠনটি যে পরিসংখ্যান প্রকাশ করছে—৭৩টি সাংগঠনিক জেলা এবং ১৭২টি সংসদীয় এলাকার নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ—তা ব্যাপক পরিসরের উদ্যোগের দাবি বহন করে। এসব তথ্যের পূর্ণাঙ্গ তালিকা, বৈঠকের তারিখ, অংশগ্রহণকারীদের তথ্য এবং কার্যক্রমের নথি পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হলে ART-এর কার্যক্রম সম্পর্কে আরও স্বচ্ছ ও যাচাইযোগ্য চিত্র পাওয়া সম্ভব হবে।

 

রাজনৈতিক প্রতিকূলতা কিংবা পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যেকোনো দলের জন্য তৃণমূলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, মাঠপর্যায়ের প্রকৃত পরিস্থিতি জানা, নেতা-কর্মীদের বক্তব্য শোনা এবং তথ্যভিত্তিক সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। ART নিজেদের কার্যক্রমকে সেই যোগাযোগ ও তথ্যসমন্বয়ের একটি মাধ্যম হিসেবে তুলে ধরছে।

 

আগামী দিনে তাদের কার্যক্রমের মূল্যায়নও নির্ভর করবে সংগঠনটি কতটা স্বচ্ছভাবে তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশ করে, বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মতামত কতটা প্রতিনিধিত্বশীলভাবে তুলে ধরে এবং গবেষণা ও বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে যাচাইযোগ্য পদ্ধতি অনুসরণ করে—তার ওপর।

 

ড. মোঃ জয়নুল আবেদীন রোজ

সভাপতি, যুক্তরাজ্য অনলাইন প্রেসক্লাব


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর