রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন
আজকের শিরোনাম
তাহিরপুর সীমান্তে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে ৩ বাংলাদেশিকে আটক করেছে বিজিবি। গারো পাহাড়ে বন রক্ষায় মানববন্ধন: আগুন প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ব্যানার স্থাপন! ভুরুঙ্গামারীতে মানব সমাজ কল্যাণ ক্লাব’র আর্থিক সহায়তা ও ঈদ উপহার প্রদান শ্রীমঙ্গলে আব্দুল খালেকের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল—দোয়া কামনায় মিলিত সর্বস্তরের মানুষ; রাউজান প্রেস ক্লাবের উপহার বিতরণ সাংবাদিকদের মানবিক উদ্যোগ প্রশংসনীয়: সাবের সুলতান কাজল বাংলাদেশ ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিডিপিএ)-কে বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শে রূপান্তরের অভিযোগ: ফ্যাসিস্ট দোসর পুনর্বাসনের অপচেষ্টা পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাকেরগঞ্জ উপজেলার বিএনপির সাবেক সদস্য জনাব এস, এম নিয়াজ মোর্শেদ ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বেস্ট ফিজিওথেরাপি হসপিটালের ডাইরেক্টর মোঃ আক্তার হোসেন উপজেলা প্রেসক্লাব ভূরুঙ্গামারী’র ইফতার মাহফিল সাংবাদিক উন্নয়ন পরিষদের উদ্যোগে ঈদ উপহার বিতরণ, ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত;

তদন্ত প্রতিবেদন- হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মেলেনি সন্দেহজনক তথ্য

রিপোর্টারের নাম / ১৯৬ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: শনিবার, ২৫ মে, ২০২৪

ইরানে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে উত্তেজনার পূর্বাভাস

ইরানে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিসহ ৯ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় ইরানি সেনাবাহিনীর (আইআরজিসি) গঠন করা তদন্ত কমিটি প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দুর্ঘটনার ব্যাপারে সন্দেহজনক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সবকিছুই স্বাভাবিক নিয়মেই চলছিল। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। সূত্র : তাসনিম, রয়টার্স।

খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার তদন্ত প্রতিবেদন আইআরজিসির কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাইসির হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের পর গত সোমবার (২০ মে) দুর্ঘটনাস্থলে যায় তদন্তকারী দলের সদস্যরা। বিশেষজ্ঞ, প্রযুক্তিবিদদের সমন্বয়ে এ তদন্তকারী দল গঠিত হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হেলিকপ্টারটি পুরো পথ ধরে তার পূর্বনির্ধারিত পথেই ছিল এবং ফ্লাইট রুট থেকে বিচ্যুত হয়নি। দুর্ঘটনার দেড় মিনিট আগেই বিধ্বস্ত হওয়া হেলিকপ্টারের পাইলট প্রেসিডেন্টের বহরে থাকা অন্য দুই হেলিকপ্টারের পাইলটের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিধ্বস্ত হওয়া হেলিকপ্টারে বুলেট বা অনুরূপ কোনো জিনিসের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয় একটি পর্বতে। এরপরই সেটিতে আগুন ধরে যায়।
আরও উল্লেখ করা হয়, ড্রোনের সহায়তায় বিধ্বস্ত হেলিপ্টারের সঠিক অবস্থান শনাক্ত করা হয়। দুর্ঘটনার সময় ওয়াচটাওয়ার এবং ফ্লাইট ক্রুদের মধ্যে কথোপকথনেও কোনো সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে এও বলা হয়, এ দুর্ঘটনা নিয়ে আরও তদন্ত করা হচ্ছে।

এদিকে এই তদন্ত প্রতিবেদনে বিশ্লেষকদের অনেকেই সন্তুষ্ট হতে পারেননি। কেউ কেউ এটাকে আইআরজিসির মিডিয়া কৌশল হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, কোনো কিছু আড়াল করতেই এ ধরনের প্রতিবেদন দিয়ে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা বিভিন্ন দেশের উদাহরণ দিয়ে উল্লেখ করেছেন, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো প্রায়ই চাপিয়ে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ ঘটনার প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে। কারণ অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের কাছে এই ধরনের তথ্যের অ্যাক্সেস থাকে না। রাষ্ট্রীয়ভাবে এই কৌশলটির লক্ষ্য হলো জনগণকে ধীরে ধীরে সম্ভাব্য বড় কোনো খবরের জন্য প্রস্তুত করা। সে অনুযায়ী, পরস্পরবিরোধী বা প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে আইআরজিসি অধিভুক্ত মিডিয়া জনসাধারণকে বড় খবর সহজে গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত করতে চাইছে। এতে সামাজিকভাবে যে প্রতিক্রিয়া আসার কথা ছিল তা ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে। কোনো কোনো বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করাও আইআরজিসির কৌশল। সেইমতো নিশ্চিত করা হয়েছে যে, তাদের উদ্দেশ্য মতোই সংবাদগুলো পরিবেশন করা হয়েছে এবং জনগণের প্রতিক্রিয়া হ্রাস করা গেছে। বিশ্লেষকরা বলছে, রাইসির মতো রাষ্ট্রের কোনো নেতার সফরের জন্য স্ট্যান্ডার্ড প্রোটোকলে তিনটি হেলিকপ্টার থাকে। একটি থাকে সামনে, অন্যটি মাঝখানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য এবং তৃতীয়টি পেছন থেকে সহায়তার জন্য। তবে রাইসির বেলায় শেষ মুহূর্তে হেলিকপ্টারের পজিশনে অদলবদল করা হয়, যা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ছিল না। তদন্তে এসব এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে আরোহণের জন্য ‘ষড়যন্ত্রের’ বিষয়টিও ইঙ্গিত করছেন। কারণ সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির পরবর্তী অবস্থানে ছিলেন রাইসি। তিনি মারা যাওয়ায় এই অবস্থানে চলে এসেছেন তার ছেলে। বিষয়টি ইঙ্গিতপূর্ণ বলে অনেকে মনে করেন। ইরানে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে উত্তেজনা : ইরানি বংশোদ্ভূত আমেরিকান এক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বলছেন, রাইসির মৃত্যু আলী খামেনির সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতার সূত্রপাত ঘটাতে পারে। ৮৫ বছর বয়সি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার উত্তরসূরি সম্পর্কে জল্পনা-কল্পনাও বাড়ছে এবং রাইসির মৃত্যু ইরানের কট্টরপন্থি রাজনৈতিক অভিজাতদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে প্রতারণা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই প্রতিযোগিতা কেবল পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে হবেন তা নিয়ে নয়, কে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদে আরোহণ করবেন তা নিয়েও। ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণের ক্ষেত্রে এ দুটি পদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে খামেনি-পরবর্তী যুগে। ফলে আগামী কয়েক মাসে ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো নির্ধারণে বিশিষ্ট রাজনীতিবিদদের রাজনৈতিক কূটকৌশল চরম আকার ধারণ করতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর