বিশেষ প্রতিনিধি: ১১ জুন বিশ্ব ফ্যাটি লিভার দিবস উপলক্ষে রংপুর মেডিকেল কলেজে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে হাসপাতালের হেপাটোলজি (লিভার) বিভাগের উদ্যোগে একটি বৈজ্ঞানিক সেমিনার ও বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক র্যালির আয়োজন করা হয়। র্যালিতে হাসপাতালের চিকিৎসক, ইন্টার্ন ডাক্তার, নার্স ও মেডিকেল শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
সেমিনারে বক্তারা জানান, ফ্যাটি লিভার বর্তমানে নীরবে বাড়তে থাকা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মারাত্মক স্বাস্থ্যসমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে ফ্যাটি লিভার সমস্যায় আক্রান্ত। প্রাথমিক অবস্থায় এর লক্ষণ প্রকাশ না পাওয়ায় অনেকেই অজান্তে এই রোগে ভুগছেন, যা পরবর্তীতে লিভার সিরোসিস বা লিভার ক্যান্সারের মতো জটিলতায় রূপ নিতে পারে।
ফ্যাটি লিভারের মূল কারণসমূহ:
অনিয়ন্ত্রিত ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস।
অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার, ফাস্ট ফুড ও চিনিযুক্ত খাবার খাওয়া।
কোমল পানীয় (সফট ড্রিংকস) অতিরিক্ত গ্রহণ।
অলস জীবনযাপন এবং শারীরিক পরিশ্রম বা কায়িক শ্রম না করা।
চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেন, যাদের ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ এবং রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড বা চর্বির পরিমাণ বেশি রয়েছে, তাদের ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক গুণ বেশি।
সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা এই রোগ প্রতিরোধে সচেতনতার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেন। তারা জানান, সঠিক নিয়মে জীবনযাপন করলে এই রোগ থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন:
স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা।
চর্বিযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার পরিহার করা।
নিয়মিত ব্যায়াম বা অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটাচলা করা।
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও রক্তের চর্বি কঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখা।
যুগোপযোগী এই আয়োজনের মাধ্যমে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ফ্যাটি লিভার নিয়ে সচেতনতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন আয়োজকরা।