শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩২ অপরাহ্ন
আজকের শিরোনাম
পানিতে ডুবে বকশীগঞ্জেশিক্ষার্থীর মৃত্যু! নকলায় ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী মোবারক হোসেন মিন্টু টেকনাফে মাদক নির্মূলে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান সমাজকল্যাণমন্ত্রীর Milad and Prayer Gathering Held for the Forgiveness of the Late Faruk Ahmed বকশীগঞ্জে বগারচর মিনি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত। রাজশাহী নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজে মেধাবীদের সম্মাননা প্রদান; দক্ষিণ দাড়িয়ারপাড় গণসংযোগে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার কাউছার আহমেদ সুমন ঐক্য, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের প্রত্যয়ে ৬নং পাঠাকাটা ইউনিয়ন গড়তে চান চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ সুবাস মিয়া ২ নং ধানশাইল ইউনিয়নের চাপাঝুড়ায় গণসংযোগ ও মতবিনিময়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার কাউছার আহমেদ সুমন বকশীগঞ্জে জামালপুর গারো হিলস্ রানার্স কমিউনিটি সংগঠনের আয়োজনে মিনি ম্যারাথন অনুষ্ঠিত।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আদালতে বিচারাধীন দখল পুনরুদ্ধারের মামলা: ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় ভুক্তভোগী

তাড়াশ টাইমস / ৯৬ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের তাড়াশে মৃত বাবার রেখে যাওয়া পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিরোধ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বৈধ উত্তরাধিকারী দাবি করে এক ভুক্তভোগী সন্তান অভিযোগ করেছেন, বাবার মৃত্যুর পর তাঁর চাচা ও ফুফুরা আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই পৈত্রিক সম্পত্তির একটি অংশ অন্যের কাছে বিক্রি করেন এবং পরবর্তীতে তাঁকে তাঁর ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ঘটনায় তিনি দখল পুনরুদ্ধারের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীর বাবার নামে ২০০৭ সালে সংশ্লিষ্ট মৌজার পৈত্রিক সম্পত্তি আইনগতভাবে নামজারি (মিউটেশন) সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে ২০১০ সালে তাঁর মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে ভুক্তভোগী ওই সম্পত্তির বৈধ অংশীদার হন। তবে তাঁর অভিযোগ, পূর্বের বৈধ নামজারি আইনগতভাবে বাতিল বা সংশোধন না করেই ২০১৭ সালে চাচা ও ফুফুরা সম্পত্তির একটি অংশ অন্যের কাছে বিক্রি করেন, যা পরবর্তীতে দীর্ঘমেয়াদি আইনি বিরোধের সৃষ্টি করে।

বর্তমানে জমির দখল পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত মামলাটি তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ভুক্তভোগীর দাবি, মামলার শুনানিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অত্যন্ত ধৈর্য, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনেছেন এবং উপস্থাপিত কাগজপত্র ও তথ্য-প্রমাণ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করেছেন। প্রশাসনের এমন নিরপেক্ষ ভূমিকা তাঁর মধ্যে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা আরও দৃঢ় করেছে।

ভুক্তভোগী বলেন, “আমি কোনো ব্যক্তি, ক্ষমতা কিংবা প্রভাবের কাছে নই; বাংলাদেশের আইন, বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতার ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেই ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করছি। তদন্ত, শুনানি ও উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণে যদি প্রমাণিত হয় যে জমিটির বৈধ অধিকার আমার, তাহলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী দখল পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে আমার ন্যায্য অধিকার আমাকে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। আমি কারও সম্পত্তি চাই না; আমি শুধু আমার বাবার রেখে যাওয়া বৈধ অধিকার ফিরে পেতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, “আত্মীয়তার নামে বিশ্বাসঘাতকতা সবচেয়ে বেদনাদায়ক। দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রতিকূলতা, প্রভাব ও বাধার মুখোমুখি হয়েও আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে লড়াই করে যাচ্ছি। আমার বিশ্বাস, সত্যকে সাময়িকভাবে আড়াল করা গেলেও চিরদিনের জন্য পরাজিত করা যায় না।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্পত্তিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলমান রয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

আইন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, কোনো সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধে বৈধ মালিকানা, দখল ও উত্তরাধিকার নির্ধারণের ক্ষেত্রে আদালতে উপস্থাপিত দলিল, সাক্ষ্য-প্রমাণ, তদন্ত প্রতিবেদন এবং প্রচলিত আইনই চূড়ান্ত বিবেচ্য বিষয়।

ভুক্তভোগী সমাজের সচেতন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সত্যের পাশে থাকুন। সহযোগিতা করতে না পারলেও অন্তত অন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেবেন না। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা শুধু একজন মানুষের অধিকার রক্ষাই নয়, এটি আইনের শাসনেরও বিজয়।”

বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন থাকায় সংশ্লিষ্ট আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবার। তাদের প্রত্যাশা, উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ, তদন্তের ফলাফল এবং প্রচলিত আইনের ভিত্তিতেই প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং বৈধ অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর