সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৩ পূর্বাহ্ন
আজকের শিরোনাম
তাড়াশে নিলয়ের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা ও হয়রানিমূলক অভিযোগের প্রতিবাদ, এলাকাবাসীর ক্ষোভ বিশ্বনাথে সরকারি সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ বাকেরগঞ্জে মা ইলিশ সংরক্ষণে অভিযান, ৬০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ। সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে কলেজছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ: বিচারের দাবিতে অসন্তোষ, উদ্ধারকারীদের হত্যার হুমকি বাকেরগঞ্জে মাদক, সন্ত্রাস, নারী নির্যাতন ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে বিট মিটিং টেকনাফ উপজেলা আদর্শ ক্রেডিট ইউনিয়নের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত ধানশাইল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার কাউছার আহমেদ সুমনের গণসংযোগ বকশীগঞ্জে মহা সড়কে ব‌উ-শ্বাশুড়ির মর্মান্তিক মৃত্যু। তরুণদের ক্রীড়াঙ্গনে উৎসাহিত করছেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার কাউছার আহমেদ সুমন, ১-০ গোলে জয়ী ধানশাইল স্টুডেন্ট পাওয়ার FC অবৈধ বালু ও মাটি কাটার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ৮ জন আটক ৫ লাখ জরিমানা

বিশ্বনাথে সরকারি সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

তাড়াশ টাইমস / ২৩ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬

বিশ্বনাথে সরকারি সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

“রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনের প্রশ্ন—বাদ পড়া আবেদনকারীদের ক্ষোভ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি”

সিলেট প্রতিনিধি:

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় সরকারি সার ডিলার নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর অনিয়ম, রাজনৈতিক পক্ষপাত, প্রভাব বিস্তার ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।

যোগ্যতা ও নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে আবেদন করেও অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীরা ডিলারশিপ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। অন্যদিকে, নতুন ডিলার হিসেবে মনোনীত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন আবেদনকারী। এ নিয়ে স্থানীয় কৃষি ব্যবসায়ী মহলে অসন্তোষ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি সার বিতরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, আর্থিক সক্ষমতা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, গুদাম সুবিধা এবং নির্ধারিত যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা থাকলেও বিশ্বনাথে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এসব শর্ত যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক যোগাযোগ ও প্রভাবের পাশাপাশি আর্থিক সুবিধার বিষয়টিও নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে থাকতে পারে। তবে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, বিশ্বনাথ পৌরসভা এবং বিশ্বনাথ সদর ইউনিয়নে একটি করে নতুন সার ডিলার মনোনীত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীরা জানিয়েছেন। তালিকা প্রকাশের পর থেকেই বাদ পড়া আবেদনকারীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। তাঁদের প্রশ্ন, কোন মানদণ্ডে নতুন ডিলার নির্বাচন করা হয়েছে, আবেদনকারীদের যোগ্যতা কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা কতটা অনুসরণ করা হয়েছে?

পৌরসভা ও সদর ইউনিয়নে নতুন ডিলার মনোনয়ন
সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বনাথ পৌরসভার জন্য সেজু সার এন্ড বীজঘর, যার স্বত্বাধিকারী মো. তাজুল ইসলাম সেজু, আনরপুর—ডিলারশিপ পেয়েছে। একইভাবে বিশ্বনাথ সদর ইউনিয়নের জন্য মেসার্স মোয়াজ এন্টারপ্রাইজ, যার স্বত্বাধিকারী বাদশা মিয়া, ধীতপুর—ডিলার হিসেবে মনোনীত হয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাজুল ইসলাম সেজু জেলা ছাত্রদলের সদস্য এবং বাদশা মিয়া উপজেলা যুবদলের সদস্য। তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়টি সামনে এনে কয়েকজন আবেদনকারী দাবি করেছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক যোগাযোগ বা প্রভাব কাজ করেছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তবে কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হলেই তিনি সরকারি ডিলারশিপ পাওয়ার অযোগ্য হয়ে যান—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নীতিমালায় রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা সম্পর্কে কোনো নিষেধাজ্ঞা রয়েছে কি না, মনোনীত ব্যক্তিরা নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করেছেন কি না এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম ঘটেছে কি না, সেসব বিষয় নথিপত্রের ভিত্তিতে যাচাই করা প্রয়োজন।
পুরোনো ব্যবসায়ীদের বাদ পড়া নিয়ে প্রশ্ন
বিশ্বনাথের দীর্ঘদিনের পরিচিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মেসার্স ফারুক এন্ড ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী কয়ছর আহমদ অভিযোগ করেন, তাঁরা নির্ধারিত নিয়ম মেনে আবেদন করলেও চূড়ান্ত তালিকায় তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
তিনি বলেন, “আমরা যথাযথ নিয়ম মেনে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু প্রকাশিত তালিকা দেখে হতাশ হয়েছি। আমরা জামায়াতে ইসলামী-সমর্থিত পরিবার হওয়ায় স্থানীয় বিএনপির সংসদ সদস্যের নির্দেশে আমাদের বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করছি। প্রকৃত ব্যবসায়ী হয়েও কেন আমরা ডিলারশিপ পেলাম না, তার জবাব চাই। আমরা এ ঘটনার প্রতিকার চাই।”
কয়ছর আহমদের অভিযোগ, তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় বা পারিবারিক রাজনৈতিক অবস্থান নিয়োগের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের কোনো নির্দেশ ছিল কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্যের বক্তব্যও পাওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে, মেসার্স আব্দুল্লাহ ট্রেডার্স এন্ড বীজঘরের স্বত্বাধিকারী ফখর উদ্দিনও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, “আমরা যথাযথ নিয়ম মেনে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু একই প্রক্রিয়ায় আমাদের বাদ দেওয়া হয়েছে এবং নতুন কিছু প্রতিষ্ঠানকে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত। আমরা এই অনিয়মের প্রতিকার চাই।”
তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা এবং সংশ্লিষ্ট খাতে অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও তাঁরা ডিলারশিপ পাননি। অথচ নতুন মনোনীত প্রতিষ্ঠানগুলোর যোগ্যতা, পূর্ববর্তী ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য তাঁদের কাছে নেই।
তবে বাদ পড়া আবেদনকারীদের দাবি যাচাইয়ের জন্য তাঁদের আবেদনপত্র, ব্যবসায়িক নথি, যোগ্যতার প্রমাণপত্র এবং মূল্যায়নসংক্রান্ত সরকারি কাগজপত্র পর্যালোচনা করা জরুরি।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ
বিশ্বনাথের কয়েকজন আবেদনকারীর অভিযোগ, সার ডিলার নিয়োগের সিদ্ধান্তে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক যোগাযোগ গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁদের দাবি, স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রভাবও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কাজ করে থাকতে পারে।
অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, সরকারি সার বিতরণের মতো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট খাতে ডিলার নিয়োগ যদি রাজনৈতিক পরিচয় বা ব্যক্তিগত যোগাযোগের ভিত্তিতে হয়ে থাকে, তাহলে প্রকৃত কৃষি উপকরণ ব্যবসায়ীরা বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি কৃষকের স্বার্থও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তবে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত নির্দেশ, প্রমাণিত যোগাযোগ বা তদন্তের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত অনিয়ম হিসেবে নয়, বরং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ, প্রমাণ কোথায়?
নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঘিরে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও তুলেছেন অভিযোগকারীদের একাংশ। তাঁদের সন্দেহ, নির্ধারিত যোগ্যতার বাইরে অন্য কোনো সুবিধা নিয়োগের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে থাকতে পারে।
তবে কার সঙ্গে কার আর্থিক লেনদেন হয়েছে, কী পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়েছে, কখন বা কোন মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে—এসব বিষয়ে নির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এ অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে শুধু মৌখিক বক্তব্য যথেষ্ট নয়।
অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজন হলে আবেদন ও নির্বাচনসংক্রান্ত নথি, মূল্যায়ন প্রতিবেদন, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত, আর্থিক লেনদেনের প্রাসঙ্গিক প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পরীক্ষা করা যেতে পারে।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ আবেদনকারীরা। একই সঙ্গে অভিযোগের সঙ্গে যাঁদের নাম জড়িয়েছে, তাঁদের বক্তব্য নেওয়া এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়াও জরুরি।
সার ডিলার নিয়োগে স্বচ্ছতা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
সরকারি সার ডিলার নিয়োগ শুধু ব্যবসায়িক সুযোগ বণ্টনের বিষয় নয়; এর সঙ্গে কৃষি উৎপাদন, সার সরবরাহব্যবস্থা, কৃষকের ন্যায্যমূল্যে সার পাওয়ার সুযোগ এবং স্থানীয় কৃষি অর্থনীতির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্য ও সক্ষম ডিলার নির্বাচন করা না হলে সার বিতরণে অনিয়ম, সরবরাহে ঘাটতি এবং কৃষকের ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। তবে বিশ্বনাথে নতুন ডিলার নিয়োগের কারণে ইতিমধ্যে সারসংকট বা কৃষকের ক্ষতি হয়েছে—এমন কোনো যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় কৃষি ব্যবসায়ীদের একাংশের মতে, নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্নের অবসান ঘটাতে হলে শুধু চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করাই যথেষ্ট নয়; কোন মানদণ্ডে আবেদনকারীদের নির্বাচন করা হয়েছে, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে আবেদনকারীদের যোগ্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা, গুদাম ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বাস্তব অবস্থা পরিদর্শন, আর্থিক সক্ষমতা মূল্যায়ন এবং নম্বরভিত্তিক মূল্যায়ন হয়ে থাকলে তার বিবরণ প্রকাশ করা হলে বিতর্ক অনেকটাই নিরসন হতে পারে।
যেসব প্রশ্নের উত্তর চান আবেদনকারীরা
বিশ্বনাথে সরকারি সার ডিলার নিয়োগের বিতর্কের অবসান ঘটাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জবাব প্রত্যাশা করছেন অভিযোগকারীরা।
প্রথমত, নিয়োগের ক্ষেত্রে কোন নীতিমালা ও যোগ্যতার শর্ত অনুসরণ করা হয়েছে?
দ্বিতীয়ত, পৌরসভা ও বিশ্বনাথ সদর ইউনিয়নের জন্য মনোনীত দুই প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা, আর্থিক সক্ষমতা, গুদাম সুবিধা এবং অন্যান্য যোগ্যতা কীভাবে যাচাই করা হয়েছে?
তৃতীয়ত, বাদ পড়া আবেদনকারীদের আবেদন কী কী কারণে বাতিল করা হয়েছে এবং তাঁদের যোগ্যতা মূল্যায়নের বিবরণ কী?
চতুর্থত, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব বা কোনো ব্যক্তির একক সিদ্ধান্ত ভূমিকা রেখেছে কি না, তা যাচাইয়ের কোনো ব্যবস্থা রয়েছে কি?
পঞ্চমত, আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে কি না এবং তা তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি?
ষষ্ঠত, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে নিয়োগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা বা বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না?
এসব প্রশ্নের উত্তর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া গেলে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।
তদন্ত ও প্রতিকারের দাবি
বাদ পড়া আবেদনকারীরা নিয়োগ প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা, যোগ্যতার ভিত্তিতে আবেদন মূল্যায়ন এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, কোনো আবেদনকারী রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যক্তিগত যোগাযোগ কিংবা অন্য কোনো অযৌক্তিক কারণে বঞ্চিত হয়ে থাকলে তার প্রতিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তাঁরা সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ, জেলা প্রশাসন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাছে নিয়োগসংক্রান্ত নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত অবস্থা প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে মনোনীত ডিলারদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য নেওয়া এবং তাঁদের যোগ্যতা যাচাইয়ের বিষয়টি জনসমক্ষে পরিষ্কার করার দাবি উঠেছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে আরও স্পষ্ট হবে প্রকৃত চিত্র
বিশ্বনাথের সরকারি সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। নিয়োগের সুপারিশ, যাচাই-বাছাই ও চূড়ান্ত অনুমোদনের সঙ্গে কোন দপ্তর বা কর্মকর্তারা যুক্ত ছিলেন, তা সংশ্লিষ্ট নথি থেকে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ ছাড়া মনোনীত দুই প্রতিষ্ঠানের মালিকদের বক্তব্যও জরুরি। তাঁরা নির্ধারিত সব শর্ত পূরণ করে ডিলারশিপ পেয়েছেন কি না, রাজনৈতিক প্রভাব বা আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের অবস্থান কী—এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে উভয় পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরা সম্ভব হবে।
সব মিলিয়ে, বিশ্বনাথে সরকারি সার ডিলার নিয়োগকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত, নথিপত্রের যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিয়োগে কোনো অনিয়ম না হয়ে থাকলে তার পক্ষে প্রাসঙ্গিক তথ্য প্রকাশ করাই হতে পারে এ বিতর্কের গ্রহণযোগ্য সমাধান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর