বাঁশখালী প্রতিনিধি।
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ১১নং পুইছড়ী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাব্বত নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে জামাতের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা, অবৈধ বালি উত্তোলনসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন।
অভিযোগ রয়েছে, এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি নিজেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর ‘জয়েন্ট সেক্রেটারি’ পরিচয় দিয়ে থাকেন। তবে প্রকাশ্যে বা আনুষ্ঠানিকভাবে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি সংগঠনের সদস্য নন বলেও দাবি করেন। এ বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, মোহাব্বত দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ তার কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে বা প্রশ্ন তুললে তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, “ওনার কথাবার্তায় মনে হয় উনি বড় নেতা। কিন্তু যখন জিজ্ঞেস করা হয় জামাতের অফিসিয়াল কোনো পদে আছেন কি না, তখন বলেন তিনি সংগঠনের কেউ নন। তাহলে ‘জয়েন্ট সেক্রেটারি’ পরিচয় ব্যবহার করেন কেন?”
স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি তিনি সত্যিই সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হন, তাহলে কেন একটি রাজনৈতিক দলের পদবী ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব খাটাচ্ছেন? আর যদি সম্পৃক্ত থাকেন, তাহলে দলীয় পরিচয়ের আড়ালে অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ কেন উঠছে?
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে সচেতন মহলের দাবি, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।
এলাকার সচেতন নাগরিকরা বলেন, “যে কোনো সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি ব্যক্তিগত স্বার্থে বা অবৈধ কাজে জড়ায়, তাহলে তা শুধু আইন ভঙ্গই নয়, সংগঠনের ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করবে এবং প্রমাণ মিললে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।