সিংড়ায় রফিকুলের বিরুদ্ধে মামলাবাজির অভিযোগ, হয়রানির দাবি স্থানীয়দের
বেল্লাল হোসেন বাবু, সহকারী বার্তাসম্পাদক :
নাটোরের সিংড়া উপজেলার ১১ নম্বর ছাতারদীঘি ইউনিয়নের পশ্চিম বাঁশবাড়িয়া গ্রামে একের পর এক মামলা দায়েরকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রামের সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে হয়রানি, মামলা থেকে রেহাই দেওয়ার কথা বলে অর্থ দাবি এবং জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক বছরে একই এলাকার বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে প্রায় ১০টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় অর্ধশতাধিক মানুষকে আসামি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের। মামলা-মোকদ্দমার কারণে অনেক পরিবার আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে এসব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে নওগাঁয় রফিকুল ইসলামের শ্বশুরবাড়িতে তার শ্যালিকার মৃত্যুর ঘটনায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়। মামলাটি সিআর-১২৭/০৮ নম্বরের বলে তারা জানান। এ মামলার নথিতে মৃত্যুর সময় নিয়ে অসঙ্গতি রয়েছে এবং পরবর্তীতে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।
এ ছাড়া ২০১১ সালে শাহাজান মন্ডল নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার কথাও জানান স্থানীয়রা। তার ছেলে আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ওই মামলায় তার বাবাকে প্রায় তিন মাস কারাগারে থাকতে হয়। তার দাবি, ওই সময় পরিবারের কাছে অর্থ দাবি করা হয়েছিল। অর্থ না দেওয়ায় তার বাবার প্রায় পৌনে তিন বিঘা জমি রফিকুল ইসলাম দখলে রেখেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয়দের আরও দাবি, ২০১৩ সালের একটি পারিবারিক বিরোধের ঘটনায় ১৪ নভেম্বর মামলা হয়, যা ২০১৭ সালে নিষ্পত্তি হয়। পরে একই ঘটনার সূত্র ধরে ২০২৬ সালে মো. আশরাফুল মৃধাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে রফিকুল ইসলাম তার বাবাকে হত্যার অভিযোগে নতুন মামলা করেছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
নতুন মামলায় রফিকুল ইসলামের বাবার মৃত্যুর সাল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, মামলায় ২০১৩ সালে মৃত্যুর কথা উল্লেখ করা হলেও ইউনিয়ন পরিষদের নথি অনুযায়ী মো. শাহাদৎ আলী মন্ডল ২০১৭ সালের ১৬ জুলাই মারা যান। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
ছাতারদীঘি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মিজানুর রহমান বলেন, রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানির অভিযোগ তিনি স্থানীয়দের কাছ থেকে শুনেছেন। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমার লাঠি না থাকায় আমি আইনের আশ্রয় নিই।” মামলা দিয়ে হয়রানি কিংবা অর্থ দাবির অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় কয়েকজন তাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মামলাগুলোর প্রকৃত কারণ ও অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হোক। একই সঙ্গে কেউ মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হয়ে থাকলে তার প্রতিকার এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।