প্রেমিকের সঙ্গে যোগসাজশে প্রাক্তন স্বামীর ফ্ল্যাট দখলের অভিযোগ সাবেক স্ত্রীর বিরুদ্ধে
সিলেট প্রতিনিধি:
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার মুফতিরগাঁও এলাকায় প্রেমিকের সঙ্গে যোগসাজশ করে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী প্রাক্তন স্বামীর ফ্ল্যাট দখল করে থাকার অভিযোগ উঠেছে মোছা. রাহেলা বেগম নামে এক তালাকপ্রাপ্ত নারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্বনাথ উপজেলার মুফতিরগাঁওয়ের টিএনটি রোড এলাকায় জমি ক্রয় করে তিনতলা বিশিষ্ট ‘তারা ভবন’ নির্মাণ করেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী মো. আবিদ আলী। ২০২২ সালে তিনি তার মালিকানাধীন মুসলা মৌজার জেএল নং-৮৪, এসএ খতিয়ান নং-২৫২, বিএস খতিয়ান নং-২৯, এসএ দাগ নং-৬১৬৬ ও বিএস দাগ নং-৮৪৩২-এর মোট ১১.৩৫ শতক ভূমির মধ্যে ৩.৩৮ শতক ভূমি (তারা ভবনসহ) প্রথম সংসারের দুই ছেলে ফয়সল আলী ও আবজল আলীর নামে হস্তান্তর করেন। বর্তমানে তারা যুক্তরাজ্যে অবস্থান করায় ভবনটির একটি ফ্ল্যাট জবরদখল করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে বলা হয়, ১৯৯১ সালে আবিদ আলী বালাগঞ্জ উপজেলার তিলকচাঁন্দপুর গ্রামের আব্দুল মনাফের মেয়ে রাহেলা বেগমকে বিয়ে করেন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে দেনমোহর পরিশোধ করে তাকে তালাক দেন। সিলেটের শাহপরান থানার ২০ নম্বর এমএস কাজী অফিসের কাজী সজীব আহমদ তালাকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
আবিদ আলীর অভিযোগ, বৈবাহিক সম্পর্ক চলাকালে রাহেলা বেগম তার ছোট ভাই আবুল কালামের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন এবং এ কারণেই তাকে তালাক দেওয়া হয়। তালাকের পর রাহেলা বেগম প্রেমিক আবুল কালাম ও কয়েকজন বহিরাগতকে সঙ্গে নিয়ে ‘তারা ভবন’-এর তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট দখল করে বসবাস শুরু করেন।
এ ঘটনায় আবিদ আলীর বর্তমান স্ত্রী স্বপ্না বেগম বাদী হয়ে বিশ্বনাথ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর বিশ্বনাথ সি.আর. মামলা নং-১৫/২০২৫। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিশ্বনাথ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সামসুল হক সুমন আদালতে একটি অনুসন্ধান প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে রাহেলা বেগম বহিরাগতদের নিয়ে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি দখল করে আছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে স্বপ্না বেগম বলেন, “রাহেলা বেগম ও আবুল কালাম ‘তারা ভবন’-এর তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটটি দখল করে রেখেছেন। মামলা করার পরও ফ্ল্যাটটি উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। আমরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছি।”
লন্ডনপ্রবাসী আবিদ আলী বলেন, “তালাকের আট বছর পেরিয়ে গেলেও রাহেলা বেগম ফ্ল্যাটটি ছাড়ছেন না। প্রতারণার মাধ্যমে সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। আমাকে ও আমার পরিবারকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। এমনকি নারী নির্যাতনের অভিযোগে একটি মামলাও করেছিলেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, সিলেটের মামলা নং-৩৮৪/২০১৬-এ আমি খালাস পেয়েছি। এরপরও হয়রানির চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”
তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে ‘তারা ভবন’ দখলমুক্ত করার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে মঙ্গলবার সরেজমিনে ‘তারা ভবন’-এ গেলে রাহেলা বেগমকে পাওয়া যায়নি। সেখানে অবস্থানরত নুরুন্নাহার ইয়াসমিন নামে এক নারী জানান, “রাহেলা বেগম চিকিৎসকের কাছে গেছেন। জবরদখলের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। রাহেলা বেগম এখনো আবিদ আলীর স্ত্রী, তাদের তালাক হয়নি।”
পরে রাহেলা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য থানায় করা সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) উল্লেখিত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে যেহেতু বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন, তাই মামলার চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য ও আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর বিষয়টির নিষ্পত্তি নির্ভর করবে।