বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:২৫ অপরাহ্ন
আজকের শিরোনাম
৪৭তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত ঘাটাইলের কৃতী সন্তান মোঃ আরিফুল ইসলাম স্বপ্ন থেকে সাফল্য—প্রথম বিসিএসেই ক্যাডার শ্রীবরদীর টেংগরপাড়ার কৃতী সন্তান ডা. কে এম ইশতিয়াক আহমেদ পীরগঞ্জে সার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য স্বপ্ন থেকে সাফল্য—প্রথম বিসিএসেই ক্যাডার শ্রীবরদীর টেংগরপাড়ার কৃতী সন্তান ডা. কে এম ইশতিয়াক আহমেদ রাউজানের হলদিয়ার সর্তার কুল মৌং রমজান আলী জামে মসজিদে ঈদে মিলাদুন্নবী দঃ ও মাসিক গেয়ারভী শরীফ মাহফিল অনুষ্ঠিত বাকেরগঞ্জে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে বিএনপির নেতার সংবাদ সম্মেলন   রাউজান প্রেসক্লাবে সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত এসএসএস গাজীপুর জোনের বাসন এরিয়ায় সততা ও সঠিক তথ্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে ফিল্ড অফিসারদের কর্মশালা অনুষ্ঠিত ব্যর্থতাকে সাফল্যের সিঁড়ি বানিয়ে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের কর্মকর্তা শ্রীবরদীর তাওহীদুল ইসলাম ব্যর্থতাকে সাফল্যের সিঁড়ি বানিয়ে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের কর্মকর্তা শ্রীবরদীর তাওহীদুল ইসলাম

স্বপ্ন থেকে সাফল্য—প্রথম বিসিএসেই ক্যাডার শ্রীবরদীর টেংগরপাড়ার কৃতী সন্তান ডা. কে এম ইশতিয়াক আহমেদ

মিজানুর রহমান, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি : / ৬ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬

 

স্বপ্ন থেকে সাফল্য—প্রথম বিসিএসেই ক্যাডার

শ্রীবরদীর টেংগরপাড়ার কৃতী সন্তান ডা. কে এম ইশতিয়াক আহমেদ

 

মিজানুর রহমান,শেরপুর জেলা প্রতিনিধি: শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার টেংগরপাড়া গ্রামের কৃতী সন্তান ডা. কে এম ইশতিয়াক আহমেদ। ছোটবেলা থেকেই ছিলেন স্বপ্নবিলাসী। জীবনে বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখতেন, আর সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে অধ্যবসায়, মেধা ও পরিশ্রমকে সঙ্গী করেছেন তিনি। তার সেই স্বপ্নের পথে এবার যুক্ত হয়েছে নতুন সাফল্যের পালক—জীবনের প্রথম বিসিএস পরীক্ষাতেই সাফল্য অর্জন।

ডা. কে এম ইশতিয়াক আহমেদ ২০০১ সালের ২ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মো. আবু রায়হান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হিসেবে কর্মরত এবং মা মরহুমা শারমিন সুলতানা।

শৈশব থেকেই বাবার কর্মস্থলে যাতায়াতের সুযোগ পেয়েছেন ইশতিয়াক। সেখানে বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দেখে তাদের মতো অবস্থানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন জাগে তার মনে। তবে বাবা কখনো নির্দিষ্ট কোনো পেশা বেছে নেওয়ার জন্য তাকে চাপ দেননি। বরং নিজের মতো করে স্বপ্ন দেখার এবং তা পূরণের পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছেন।

ইশতিয়াক বলেন, “আমার বাবা কখনোই আমাকে নির্দিষ্ট কোনো পেশার জন্য চাপ দেননি। বরং তিনি আমার জন্য স্বপ্ন দেখার ক্ষেত্র তৈরি করে দিয়েছেন। তিনি আমাকে তার কর্মস্থলে নিয়ে যেতেন। সেখানে বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দেখে তাদের মতো অবস্থানে অধিষ্ঠিত হওয়ার ইচ্ছে জাগ্রত হয়।”

শিক্ষাজীবনেও মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল থেকে ২০১৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ঢাকা মহানগরীতে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। এরপর ২০১৮ সালে ঢাকার নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন।

পরে তার ভর্তির সুযোগ হয় শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে। সেখান থেকে ২০২৪ সালে ফাইনাল পেশাগত পরীক্ষায় সফলতার সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। বর্তমানে তিনি শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

চিকিৎসক হওয়ার পেছনেও রয়েছে তার জীবনের আবেগঘন একটি গল্প। তার মা কিডনি জটিলতা ও হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন। মায়ের চিকিৎসার সময় সিএমএইচের চিকিৎসকদের দেখে তাদের মতো একজন চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন জাগে তার মনে।

ইশতিয়াকের ভাষায়, “আমার মা কিডনি সমস্যাজনিত জটিল রোগ ও হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন। তখন সিএমএইচের চিকিৎসকদের দেখে তাদের মতো চিকিৎসক হওয়ার ইচ্ছে জাগ্রত হয়।”

শুধু চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নই নয়, ছোটবেলা থেকেই একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্নও লালন করতেন তিনি। বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ নথি সত্যায়িত করতে দেখে তার মনেও এমন দায়িত্ব ও ক্ষমতার অধিকারী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়।

তিনি বলেন, “যখন বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দিয়ে কোনো ডকুমেন্ট সত্যায়িত করতে দেখতাম, তখন আমারও সে ধরনের ক্ষমতার অধিকারী হতে ইচ্ছে হতো। হাতে কোনো কাজ না থাকলে খালি কাগজে সত্যায়িত করে স্বাক্ষর করতাম। নিচে লিখতাম—‘ডা. কে এম ইশতিয়াক আহমেদ, MBBS, BCS (Health)’।”

শৈশবের সেই কল্পনার স্বাক্ষরই যেন আজ বাস্তবতার দ্বারপ্রান্তে। ৪৮তম বিসিএস ছিল তার জীবনের প্রথম বিসিএস পরীক্ষা। প্রথমবার অংশ নিয়েই সাফল্য অর্জন করেছেন তিনি। তার এই অর্জনে পরিবার, স্বজন, শিক্ষক ও নিজ গ্রামের মানুষের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের সৃষ্টি হয়েছে।

ইশতিয়াক জানান, তার মা প্রায়ই বলতেন, “আমার বাবা একদিন অনেক বড় অফিসার হবে, ইনশাআল্লাহ।” মায়ের সেই আশীর্বাদ ও স্বপ্ন আজ বাস্তবায়নের পথে—এটাই তার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে ডা. কে এম ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, কর্মজীবনের পাশাপাশি নিজের গ্রামের মানুষের জন্য বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করার ইচ্ছে রয়েছে তার। গ্রামের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের কল্যাণে কাজ করতে চান তিনি।

এ লক্ষ্যে তিনি তার গ্রামের সর্বস্তরের মানুষের কাছে দোয়া কামনা করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে সততা, নিষ্ঠা ও মানবিকতার সঙ্গে দেশ ও মানুষের সেবা করতে পারেন।

টেংগরপাড়ার এই তরুণ চিকিৎসকের গল্প যেন প্রমাণ করে—স্বপ্ন যদি সত্যি হয়, পরিশ্রম যদি অবিচল থাকে এবং লক্ষ্য যদি অটুট থাকে, তবে একদিন কল্পনার সেই স্বাক্ষরও বাস্তবতার কাগজে লেখা হয়।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর