বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন

শেরপুর সীমান্তে ৭০৫ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ, ধরাছোঁয়ার বাইরে মূল হোতারা

মিজানুর রহমান, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি : / ৪৬ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬

শেরপুর সীমান্তে ৭০৫ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ, ধরাছোঁয়ার বাইরে মূল হোতারা

মিজানুর রহমান, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি:শেরপুর সীমান্তবর্তী এলাকায় পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ জব্দ করেছে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি)। তবে এসব মদ পাচারের সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি বিজিবি। ফলে সীমান্তে মাদক চোরাচালানের নেপথ্যে থাকা কথিত মূল হোতারা বরাবরের মতোই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) ভোররাতে নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে মোট ৭০৫ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করা হয়। বিজিবির দেওয়া তথ্যমতে, জব্দকৃত মদের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ১০ লাখ টাকা।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি)-এর টহল দল নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াবাড়ী এবং ঝিনাইগাতী উপজেলার গুরুচরণ দুধনই এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় চোরাকারবারিরা অভিনব কৌশলে ভারতীয় মদ পাচারের চেষ্টা করছিল। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে তারা মদের বোতলগুলো ফেলে রেখে দ্রুত পালিয়ে যায়।
পরে ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ উদ্ধার করে বিজিবি। তবে অভিযানে কোনো চোরাকারবারিকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় প্রায়ই ভারতীয় মদসহ বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানি পণ্য জব্দ করা হলেও এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের অনেক সময় আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না। মাঝে মধ্যে দরিদ্র শ্রেণির বহনকারী বা বাহক আটক হলেও চোরাচালানের নেপথ্যে থাকা কথিত অর্থদাতা ও মূল নিয়ন্ত্রকদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সীমান্ত এলাকার কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি বলেন, “মদসহ ভারতীয় পণ্য জব্দ করা হচ্ছে, এটি অবশ্যই প্রশংসনীয়। কিন্তু এসব পণ্য কারা সীমান্ত দিয়ে আনছে, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং কারা নেপথ্যে থেকে পুরো চক্র নিয়ন্ত্রণ করছে—তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।”
তাদের প্রশ্ন, শুধু বহনকারীদের আটক করে মূল চোরাচালান চক্রকে বিচারের বাইরে রাখলে সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে কি না।
এদিকে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি) জানিয়েছে, সীমান্তে মাদক পাচার, চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
বিজিবির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকায় অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত দিয়ে মাদক ও চোরাচালানি পণ্য পাচার বন্ধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তবে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান বন্ধে শুধু পণ্য জব্দ বা বাহক আটকের মধ্যে অভিযান সীমাবদ্ধ না রেখে এর সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রকে শনাক্ত করতে হবে। বিশেষ করে নেপথ্যের মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া গেলে সীমান্তে মাদক চোরাচালান অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর