বিশেষ প্রতিনিধি , গাজীপুর।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, জন্ম থেকে মৃত্যু—মানুষের প্রতিটি ধাপেই পুলিশের প্রয়োজন রয়েছে। অতীতে নানা বিতর্ক থাকলেও পুলিশ এখন জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এই ধারা অব্যাহত রাখতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
শনিবার বিকেলে গাজীপুর জেলা পুলিশ লাইন্স মাঠে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আইজিপির গাজীপুর আগমন উপলক্ষে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
আইজিপি বলেন, একটি ঐতিহাসিক নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে সর্বজনগ্রহণযোগ্য সরকার গঠিত হয়েছে। কিন্তু কিছু স্বার্থান্বেষী মহল অপপ্রচারের মাধ্যমে এই অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে দেশবাসীকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
থানায় আগত বিচারপ্রার্থীদের সেবার মান উন্নয়নে কঠোর নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, কোনো বিচারপ্রার্থী যেন থানা থেকে অসন্তুষ্ট হয়ে ফিরে না যান। পুলিশকে আরও পেশাদার ও দায়িত্বশীল মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে।
মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে আইজিপি বলেন, মাদক তরুণ সমাজকে ধ্বংস করছে এবং দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে হুমকির মুখে ফেলছে। পাশাপাশি ডিজিটাল বা সাইবার প্ল্যাটফর্মে অতিরিক্ত আসক্তির কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন।
শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৯৯ শতাংশ শ্রমিক শান্তিপ্রিয় ও কর্মমুখী। তবে মাত্র ১ শতাংশ উস্কানিদাতার কারণে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। এসব উস্কানিদাতাদের চিহ্নিত করতে পারলে শিল্পখাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
এ ছাড়া যানজট নিরসনে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন আইজিপি। আসন্ন ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনি। তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। কোনো রাজনৈতিক নেতাকর্মী মাদক বা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আসন্ন ঈদে মানুষের ঘরমুখী যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
গাজীপুর মহানগর পুলিশ আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার। আরও বক্তব্য দেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার তাহেরুল হক চৌহান, জেলা পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন এবং গাজীপুরের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক আহমদ ভূঞা। এ সময় স্থানীয় রাজনৈতিক, ব্যবসায়িক ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দসহ সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
সাবরিনা জাহান
গাজীপুর
১৫-০৩-২০২৬