নিজস্ব প্রতিবেদক::
রাজনীতিতে ক্ষমতা যত বড়, জনগণের কাছে জবাবদিহির দায়ও তত বড়। বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরীকে ঘিরে অতীতের বিভিন্ন মামলা, রাজনৈতিক বিতর্ক ও অভিযোগ নিয়ে সময়ে সময়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসব অভিযোগের কোনোটিই আদালতের চূড়ান্ত রায়ে প্রমাণিত না হলে তাকে অপরাধী বলা যায় না; কিন্তু রাজনৈতিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রে প্রশ্ন ওঠার পরও জনসমক্ষে তার ব্যাখ্যা ও জবাবদিহি গুরুত্বপূর্ণ।
আরিফুল হক চৌধুরীর সমালোচকদের বক্তব্য—শুধু রাজনৈতিক পরিচয়, পদ-পদবি কিংবা জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভর করে জনগণের আস্থা ধরে রাখা যায় না। জনগণ এখন বক্তব্যের চেয়ে কাজ দেখতে চায়, প্রতিশ্রুতির চেয়ে বাস্তব ফলাফল দেখতে চায় এবং রাজনৈতিক প্রভাবের চেয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিকে বেশি গুরুত্ব দেয়।
একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার প্রতি মানুষের প্রত্যাশাও তাই বেশি। তাঁর বিরুদ্ধে যে কোনো অভিযোগ উঠলে তা এড়িয়ে যাওয়ার পরিবর্তে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে অভিযোগকারীদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে—প্রমাণ ছাড়া কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা নয়।
রাজনীতিতে সমালোচনা গণতন্ত্রের অংশ। আরিফুল হক চৌধুরীও সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন। বরং তাঁর মতো প্রভাবশালী নেতার কাছে প্রশ্ন আরও কঠিনভাবেই করা উচিত—জনগণের স্বার্থে তিনি কী করেছেন, কী করতে পারেননি এবং ভবিষ্যতে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের জবাবদিহি কীভাবে নিশ্চিত হবে?
ক্ষমতার পরিচয় নয়—কাজ, সততা ও জবাবদিহিই শেষ পর্যন্ত একজন রাজনীতিকের আসল পরিচয়।