ডেক্স রিপোর্ট::
নির্বাচনী প্রচারণায় সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের দুর্দশা লাঘব এবং সিন্ডিকেট ভাঙার ফুলঝুরি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসীন হয়েছে। কিন্তু ক্ষমতার মসনদে বসার পর সাধারণ মানুষের মুখের হাসি মিলিয়ে যেতে সময় লাগেনি। আজ জনগণের মৌলিক অধিকার ও বেঁচে থাকার লড়াই পরিণত হয়েছে এক নির্মম পরিহাসে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের লাগামছাড়া ঊর্ধ্বগতি এবং অসাধু বাজার সিন্ডিকেটের নগ্ন দৌরাত্ম্যে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে খেটে খাওয়া ও মধ্যবিত্ত মানুষ। সরকারের নীতিনির্ধারকদের মিষ্টি বুলি ও হাকডাকের আড়ালে বাজারে চলছে সিন্ডিকেটের অবাধ রাজত্ব, যা প্রমাণ করে যে ক্ষমতার পালাবদল হলেও জনগণের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
নির্বাচনের আগে ভোটারদের মন জয় করতে যেসব রাজনৈতিক দল বড় বড় সংস্কার ও জনকল্যাণমুখী স্লোগান দিয়েছিল, আজ দ্রব্যমূল্যের আগুনে সেই প্রতিশ্রুতিগুলোর ছাই উড়ছে। চাল, ডাল, তেল, সবজি থেকে শুরু করে প্রতিটি পণ্যের দাম আজ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। অথচ বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ভূমিকা শুধু কিছু দায়সারা বৈঠক ও লোক দেখানো অভিযানেই সীমাবদ্ধ। সিন্ডিকেটের মূল হোতারা বহাল তবিয়তে থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষ প্রশ্ন তুলছে—তাহলে কি এই সিন্ডিকেটগুলোর অদৃশ্য ইশারাই আজ প্রশাসনকে পঙ্গু করে রেখেছে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজার ব্যবস্থাপনায় চরম অদক্ষতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবেই আজ এই সংকট তৈরি হয়েছে। সিন্ডিকেট ভাঙার যে রাজনৈতিক অঙ্গীকার দিয়ে সরকার জনগণের ভোট নিয়েছিল, তা আজ কেবল কাগজে-কলমে বা কথার কথাতেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। মধ্যস্বত্বভোগী ও মুনাফাখোর চক্রের অনৈতিক তৎপরতার কাছে পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থা যেন জিম্মি হয়ে পড়েছে।
জনগণ বারবার প্রতারিত হতে পারে না। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হলে কেবল কথার রাজনীতি বাদ দিয়ে মাঠপর্যায়ে কঠোর প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে। সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারলে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে না আনলে এই সরকারের জনসমর্থন দ্রুত ধূলিসাৎ হতে সময় লাগবে না। ক্ষমতার গদিতে বসে জনদুর্ভোগের এই চিত্র উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই; জনরোষের আগুন জ্বলার আগেই সরকারকে অবিলম্বে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে।