রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন
আজকের শিরোনাম
ব্রিটেনের ওয়েলস সিনেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত, ওয়েলশের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী দিন, নতুন রাজনৈতিক মানচিত্র উন্মোচিত তাহিরপুর বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আবু সায়েম   এসপি মাহবুব আলম খানকে নিয়ে উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন মৌলভীবাজারে মতবিনিময় সভা ও আহ্বায়ক ক‌মি‌টি গঠন টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের জায়গা পরিদর্শনে সিলেট-২ এর সাংসদ তাহসিনা রুশদীর লুনা সরকারের দেওয়া উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হবে : এমপি লুনা তাহিরপুরে ৪২ পিস ইয়াবা,নগদ টাকা, মোটরসাইকেলসহ ১জন আটক। জগন্নাথপুর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় মহিউদ্দিন বাবলু  ১৪ দফা দাবিতে গাজীপুরে বিএমএসএফের র‍্যালি ও আলোচনা সভা চট্টগ্রামে মাইজভান্ডারি গবেষক আল্লামা গোলাম মোস্তফা শায়েস্তা খাঁন আজহারীর ইন্তেকাল

প্রতিকূল পরিবেশে ইবাদতে মগ্ন থাকার প্রতিদান

মুফতি ইবরাহিম সুলতান / ২১৫ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

অনুকূল পরিবেশ বা পরিস্থিতি মানুষের কাজকর্ম ও মনমানসিকতায় বিরাট প্রভাব ফেলে। সমসাময়িক ও কাছের মানুষজন যদি দ্বিনের ব্যাপারে সচেতন থাকে এবং আল্লাহর বিধান মেনে চলে তাহলে নিজেরও দ্বিনের ওপর অটল থাকা সহজ হয়। আবার এই মানুষগুলোই যদি উদাসীন হয় এবং আল্লাহর নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে, তখন দ্বিন মেনে চলা কঠিন হয়ে যায়। কেননা এ অবস্থায় দ্বিনের ব্যাপারে অনুসরণীয় সচেতন ব্যক্তিদের সংখ্যা কমে যায়।

এ জন্যই এমন প্রতিকূল পরিবেশে ও দুর্যোগপূর্ণ সময়ের ইবাদত সম্পর্কে মহা প্রতিদানের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ব্যাপক গণহত্যার প্রাক্কালে ইবাদত করা আমার কাছে হিজরত করে আসার সমতুল্য।’
(মুসলিম, হাদিস : ৭২৯০)
ইমাম তাবরানি (রহ.) ভিন্ন শব্দে বর্ণনা করেন, ‘ফিতনার সময়ে ইবাদত করা আমার কাছে হিজরত করে আসার সমতুল্য।’
(আল-মুজামুল কাবির, হাদিস : ৪৯২)

মূলত এই হাদিসের মাধ্যমে নবী করিম (সা.) আমাদের জানিয়েছেন, প্রতিকূল পরিস্থিতি যথা—গণহত্যা, ফিতনা ও অলসতার সময়ের ইবাদত হিজরতের সওয়াব সমতুল্য।

কারণ হিজরত হলো আনুগত্যের সর্বোচ্চ স্তরের অন্তর্ভুক্ত। আর এই পাপাচারের সয়লাবের মধ্যে স্রোতের বিপরীতে চলে নিজের দ্বিন ও ঈমানকে রক্ষা করাও আত্মসমর্পণ ও দৃঢ় আনুগত্যের বড় প্রমাণ। এ জন্য ফিতনার সময়ের আমলকে হিজরতের ন্যায় মহান ইবাদতের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

উপরোক্ত হাদিসে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ইবাদতে মগ্ন থাকাকে হিজরতের সঙ্গে তুলনা করা প্রসঙ্গে হাদিসের ইমামরা বিভিন্নভাবে এর বিশ্লেষণ করেছেন।

নিম্নে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন ইমামের ব্যাখ্যা তুলে ধরা হলো—

১. এই হাদিসের ব্যাখ্যায় ইমাম মুনাবি (রহ.) বলেন, ‘ফিতনা ও বিশৃঙ্খলার যুগের ইবাদত অধিকতর সওয়াবের তুলনায় নবীজির নিকট হিজরত করার মতো। অথবা বলা যেতে পারে, ইসলামের শুরু যুগে সামর্থ্যহীনতার কারণে মুহাজিরদের সংখ্যা ছিল খুবই অল্প। তেমনিভাবে ফিতনার সময় ইবাদতকারীদের সংখ্যাও হবে অল্প।’ (ফয়জুল কাদির, বর্ণনা : ৫৬৬২)

২. ইমাম ইবনুল আরাবি (রহ.) বলেন, ‘এ হাদিসে হিজরতের সঙ্গে তুলনা দেওয়ার কারণ হলো ইসলামের শুরু যুগের মুহাজিররা দারুল কুফর ও তার অধিবাসীদের ত্যাগ করে দারুল ঈমান ও তার অধিবাসীদের নিকট হিজরত করতেন। তেমনিভাবে ফিতনার যুগে মানুষ ওই ফিতনা সৃষ্টিকারী সম্প্রদায় ও সময়কে নিজ অবস্থায় ছেড়ে দ্বিন রক্ষার্থে ইবাদতের আশ্রয়ে পলায়ন করবে। এভাবে এটাও হিজরতের অন্তর্ভুক্ত হবে।’ (ফয়জুল কাদির, বর্ণনা : ৫৬৬২)

৩. ইমাম নববি (রহ.) বলেন, ‘ফিতনার সময়ে সমস্ত মানুষ ইবাদত থেকে উদাসীন ও অনাগ্রহী থাকে। কেবলমাত্র মুষ্টিমেয় কিছু লোক দ্বিনের ওপর অটল থাকে। তাই তাদের এই ইবাদত হিজরতের সমতুল্য।’ (শরহুন নববি, বর্ণনা : ২৯৪৮)

৪. হাফেজ ইবনে রজব হাম্বলি (রহ.) বলেন, ‘ফিতনার যুগে সাধারণত মানুষ নিজের কুপ্রবৃত্তির অনুসারী হয়ে থাকে। দ্বিনের প্রতি উদাসীন থাকে। তাদের অবস্থা তখন জাহেলি যুগের মানুষের মতো হয়ে যায়। বেশির ভাগ মানুষ তো পথভ্রষ্ট হয়ে যায়। তবে কিছু লোক দ্বিনের ওপর অবিচল থাকে, নিজ প্রভুর ইবাদত করে, তাঁর সন্তুষ্টি তালাশ করে এবং অসন্তোষের কাজ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করে। মূলত তাদের অবস্থার তুলনা এ হাদিসে। অর্থাৎ জাহেলি যুগের কাফিরদের মধ্যে থেকে কেউ আল্লাহর নবী (সা.)-এর সব আদেশ-নিষেধ মানার প্রতিজ্ঞা করে তাঁর নিকট হিজরত করে এসেছে, ঠিক ফিতনার যুগে ইবাদতকারী ব্যক্তির অবস্থাও এই ঈমানদারের মতো।’ (লাতাইফুল মাআরিফ : ১/১৩২)

৫. ইমাম ইবনুল জাওজি (রহ.) বলেন, ‘যখন ফিতনা ছড়িয়ে পড়ে তখন মানুষের মনেও গাফিলতি ছেয়ে যায়। এ অবস্থায়ও যদি কেউ ইবাদতের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে তাহলে এটা আল্লাহর সঙ্গে বান্দার মজবুত বন্ধনের প্রমাণ বহন করে। তাই এর প্রতিদান এত বেশি।’ (কাশফুল মুশকিল : ২/৪২)

তাই অনুকূল পরিবেশের ন্যায় প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও আল্লাহর প্রিয় ইবাদতের প্রতি মনোযোগী হওয়া একজন মুমিনের জন্য একান্ত কর্তব্য। কারণ আল্লাহ তাআলার মানুষকে সৃষ্টি করার প্রধান উপলক্ষ হলো তাঁর ইবাদত করা। এ মর্মে তিনি বলেন, ‘আমার ইবাদত করার জন্যই আমি মানব ও জিন জাতি সৃষ্টি করেছি।’ (সুরা : জারিয়াত, আয়াত : ৫৬)


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর