বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন
আজকের শিরোনাম
এক বিসিএস থেকে আরেক বিসিএস -৪৪তমের পর ৪৭ তম বিসিএসেও সাফল্য, কুষ্টিয়ার শাকিল আহমেদের অনন্য কৃতিত্ব গণঅধিকার পরিষদের রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক উপকমিটি গঠন স্বপ্ন থেকে সাফল্য: মুয়াজ্জিনের ছেলে এখন ৪৬ ও ৪৭তম বিসিএস ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত গার্মেন্টস শ্রমিকের ছেলে থেকে ৪ বিসিএসে সুপারিশ—এবার প্রশাসন ক্যাডারে মো. ফয়সাল আহমেদের অনন্য সাফল্য প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত বাসনা চাকমার চিকিৎসায় নানিয়ারচর সেনা জোনের মানবিক সহায়তা প্রদান বাকেরগঞ্জে কাজী মোঃ সাইফুল্লাহকে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান বাকেরগঞ্জে ম্যানেজিং কমিটির দ্বন্দ্বের বলি হলেন প্রধান শিক্ষক   বাকেরগঞ্জে ম্যানেজিং কমিটির দ্বন্দ্বের বলি হলেন প্রধান শিক্ষক

সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা: ‘চাউল পড়া’ দিয়ে চুরির অপবাদ

রিপোর্টারের নাম / ৪৩ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬

সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা: ‘চাউল পড়া’ দিয়ে চুরির অপবাদ ও ফেসবুক লাইভে মানহানির অভিযোগ সিলেটের গোয়াইনঘাটে

সিলেট বিভাগীয় প্রতিনিধি:

সিলেটের গোয়াইনঘাটে ‘চাউল পড়া’ নামক কুসংস্কারাচ্ছন্ন প্রথার মাধ্যমে চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে এক ব্যক্তিকে সামাজিকভাবে হেনস্তা এবং ফেসবুকে লাইভ প্রচার করে মানহানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আফতাব উদ্দিন দোলন (৫৭) সিলেট সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেছেন।
মামলায় আমবাড়ি হাওর এলাকার জালাল উদ্দিনকে প্রধান আসামি করে সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১৫–২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন জালাল উদ্দিন (৫৫), মিজানুল, আমিনুর, কবির আহমদ, জয়নুল হক ও আলিম উদ্দিন।
ঘটনার বিবরণ
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ মার্চ ২০২৬ তারিখ রাতে মিজানুল ও আমিনুরের পিতা আব্দুল খালিকের ঘর থেকে টাকা ও মোবাইল ফোন চুরি হয়। পরে সকালে সালিশ বৈঠক ডেকে চোর শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বৈঠকে এক তান্ত্রিকের মাধ্যমে আনা ‘চাউল পড়া’ উপস্থিত সবাইকে খাওয়ানো হয়। দাবি করা হয়, যার মুখে চাল আটকে যাবে, সেই চোর। এ প্রক্রিয়ায় কোনো প্রমাণ ছাড়াই আফতাব উদ্দিন দোলনকে চোর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরে প্রধান আসামি জালাল উদ্দিন তার ফেসবুক আইডি থেকে পুরো ঘটনাটি লাইভ প্রচার করেন। ভিডিওর মন্তব্যে দোলনকে নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া ২৮ মার্চ সকালে দোলনকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা এবং চুরির টাকা ফেরত না দিলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে মারধর করার অভিযোগও আনা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য
আফতাব উদ্দিন দোলন বলেন, তিনি নির্দোষ এবং তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।
তিনি বলেন, সালিশের দিন তাকে জোর করে ‘চাউল পড়া’ খাওয়ানো হয় এবং পরে তাকে চোর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তিনি দাবি করেন, তিনি কোনো চুরির সঙ্গে জড়িত নন এবং বরং তাকে অপমান ও হয়রানি করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য
স্থানীয় এক মুরব্বি ইসমাইল মিয়া জানান, দোলন এলাকায় ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
স্থানীয়দের একটি অংশ ধারণা করছে, পূর্ব শত্রুতার জেরে ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে সাজানো হতে পারে।
আসামি পক্ষের দাবি
প্রধান আসামি জালাল উদ্দিন দাবি করেন, দোলন মীমাংসার জন্য টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা তার অপরাধের ইঙ্গিত বহন করে।
তবে দোলন এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোনো টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেননি এবং তাকে চাপ প্রয়োগ করে অপবাদ দেওয়া হয়েছে।
আইনি পদক্ষেপ
মামলায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ২৫ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩২৩/৩৫৫/৫০৬(২)/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
উপসংহার
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। ‘চাউল পড়া’সহ কুসংস্কারাচ্ছন্ন বিচার পদ্ধতির মাধ্যমে একজন ব্যক্তিকে সামাজিকভাবে হেয় করার অভিযোগে স্থানীয় সচেতন মহল তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর