তাতিহাটি ইউনিয়নে মানবকল্যাণ ও সুশাসনের অঙ্গীকার নিয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. সেলিম মিয়া
মিজানুর রহমান, শেরপুর জেলা প্রতিনিধি :
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার ৪নং তাতিহাটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে স্থানীয়দের দোয়া, সমর্থন ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন সার্জেন্ট (অব.) মো. সেলিম মিয়া। তিনি ধর্মীয় মূল্যবোধ, মানবকল্যাণ, ন্যায়বিচার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে একটি সুন্দর ও কল্যাণমুখী ইউনিয়ন গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
সেলিম মিয়া বলেন, “আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে মানবকল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই। মানুষের প্রতি মানুষের যত্ন, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সচেতনতার মাধ্যমে তাতিহাটি ইউনিয়নকে একটি সুন্দর সমাজ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।”
তিনি নির্বাচিত হলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের উপার্জনক্ষম অভিভাবক মারা গেলে ইউনিয়ন পরিষদের তহবিল থেকে ওই পরিবারকে এককালীন আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সরকারি অনুদান ও ভাতা থেকে বঞ্চিত প্রতিবন্ধীদের ভাতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া এবং প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসে ১২টি হতদরিদ্র পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
শিক্ষাক্ষেত্রে ভালো ফলাফল করা শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্মানিত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি মাদক, জুয়া, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের অঙ্গীকার করেছেন।
সেলিম মিয়া আরও বলেন, ইউনিয়নবাসীর ব্যক্তিগত ও গোপনীয় কোনো সমস্যা থাকলে তা যথাযথ গোপনীয়তার সঙ্গে সমাধানে সহযোগিতা করা হবে। গ্রামের উন্নয়ন ও জনসাধারণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি প্রতি মাসে ইউনিয়ন পরিষদে পৃথক পৃথক সভা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে মানুষের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদ জনগণের। আপনার কোনো সমস্যা না থাকলেও পরিষদে এসে বসবেন, আপনাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেলে আমি নিজেকে ধন্য মনে করব। আমি চেয়ারম্যান নয়, আপনাদের সেবক ও চাকর হিসেবে কাজ করতে চাই।”
সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, ভাতা ও সহায়তা বণ্টনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি। সামাজিক ও ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে ন্যায়, নিরপেক্ষতা ও সঠিকতা বজায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণ ও সহায়তা নিতে নারীদের অযথা ইউনিয়ন পরিষদে এসে ভোগান্তির শিকার হতে হবে না—মেম্বারদের মাধ্যমে তা প্রকৃত উপকারভোগীর বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক পথচলার কথা তুলে ধরে মো. সেলিম মিয়া বলেন, ২০১১, ২০১৬ ও ২০২১ সালের নির্বাচনে তাতিহাটি ইউনিয়নবাসী তাকে সম্মানজনক ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছিলেন। তবে বিভিন্ন কারণে সেই ফলাফল ও দায়িত্ব পালন করার সুযোগ থেকে তিনি বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করেন। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে চেয়ারম্যান হওয়ার সেই আকাঙ্ক্ষা বয়ে বেড়াচ্ছেন উল্লেখ করে এবার জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থনে সেই স্বপ্ন পূরণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
সেলিম মিয়া বলেন, “আমি আপনাদের পদকধারী একজন সেবক হতে চাই। আপনারা যদি আল্লাহর রহমতে আমাকে চেয়ারম্যান হওয়ার সুযোগ দেন, তাহলে আপনাদের সম্মান, অধিকার ও দায়িত্বের সুরক্ষা রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। জীবনের শেষ সময়ে আপনাদের সেবা করে আত্মতৃপ্তি নিয়ে বিদায় নিতে চাই।”
তিনি তাতিহাটি ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের কাছে দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন কামনা করে বলেন, জনগণের পাশে থেকে একটি স্বচ্ছ, ন্যায়ভিত্তিক ও জনবান্ধব ইউনিয়ন পরিষদ গড়ে তোলাই তার মূল লক্ষ্য।