নন্দীগ্রামে সারের ডিলারশিপ নিয়ে অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি, প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন হোসেন
মালা খাতুন, ক্রাইম রিপোর্টার (বগুড়া) : বগুড়ার নন্দীগ্রামে সারের ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জামাল হোসেন। প্রকাশিত সংবাদে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেছেন, অভিযোগগুলোর কোনো সত্যতা নেই। তাঁর ভাষ্য, সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ছাড়া তাঁকে আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়ানো অনভিপ্রেত এবং এতে তাঁর ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে।
জামাল হোসেন বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করা উচিত। কোনো অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত না হয়ে তা প্রচার করা হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। তাই সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
নিজের অবস্থান তুলে ধরে জামাল হোসেন বলেন, “আমি সব সময় সততা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার পক্ষে। সারের ডিলারশিপ নিয়ে যে ধরনের অভিযোগে আমার নাম জড়ানো হয়েছে, তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে স্পষ্টভাবে জানাতে চাই। আমার বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা তথ্য-প্রমাণ থাকলে তা সামনে আনা হোক। অভিযোগের সত্যতা থাকলে অবশ্যই তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা উচিত। তবে প্রমাণ ছাড়া কারও বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে তাঁর সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমি চাই, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নেওয়া হোক এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করে প্রকৃত সত্য সামনে আনা হোক। আমার বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা যেতে পারে। আমি চাই, সত্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই বিষয়টির নিষ্পত্তি হোক। এতে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ পাবে এবং কেউ যেন অযথা হয়রানি বা সম্মানহানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।”
সারের ডিলারশিপ নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়ে জামাল হোসেন বলেন, যেকোনো সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য শোনা এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করা জরুরি। এতে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরার পাশাপাশি ভুল তথ্যের কারণে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা কমে।
রাজনৈতিক পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনীতিতে মতপার্থক্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকতেই পারে। তবে পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক চর্চা করা উচিত। কোনো অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে কাউকে দোষী হিসেবে উপস্থাপন না করার আহ্বান জানান তিনি।
জানা গেছে, জামাল হোসেন বগুড়া-৪ (নন্দীগ্রাম–কাহালু) আসনের সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেনের ছোট ভাই। তিনি একজন ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সদস্য। আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নন্দীগ্রাম উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।
