বাকেরগঞ্জ বরিশাল প্রতিনিধি।
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১১ টি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম বন্ধ করায় নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জনগণ।
গত ৩০ সে জুলাই বাকেরগঞ্জ উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা ও মাসিক মিটিংয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন চন্দ্র পালের একক সিদ্ধান্তে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদেরকে দাওয়াত না দিয়ে মিটিং সম্পন্ন করাকে কেন্দ্র করে নাগরিক সেবা বিঘ্ন হওয়ার কার্যক্রম চালু হয়। এ বিষয়ে উপজেলার চারাদি,দাড়িয়াল, দুধল, ফরিদপুর, কবাই, নলুয়া, কলসকাঠি,গারুড়িয়া,ভরপাশা, রঙ্গশ্রী, পাদ্রী শিবপুর, ইউপি চেয়ারম্যানরা সংবাদ মাধ্যমকে জানান গত ৩০ শে জুলাই বৃহস্পতিবার বাকেরগঞ্জ উপজেলা আইন শৃঙ্খলা মিটিংয়ে তাদেরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি,এ কারণে তারা মিটিংয়ের তারিখ ও সময় না জানায় অংশগ্রহণ করতে পারেননি। তবে তারা কারো কাছে তাদের ক্ষমতা হস্তান্তর করেননি অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পক্ষ থেকে লিখিতভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করার বিষয়ে অবগত করা হয়নি । কবাই ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জহিরুল হক জানান তাদের মত সারা বাংলাদেশে কয়েকশো ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের মেয়াদ শেষ হয়েছে, কিন্তু কোথাও প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে তাদের জানা নেই। তারপরেও যদি বাকেরগঞ্জে প্রশাসক নিয়োগ হয়ে থাকে আমাদেরকে গেজেট দেখালে আমরাই তাদেরকে ইউনিয়ন পরিষদের সকল দায়িত্ব বুঝিয়ে দিব। আমাদেরকে মাসিক আইন-শৃঙ্খলা মিটিং এ দাওয়াত না দিয়ে অবজ্ঞা করা ঠিক হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইউনিয়ন পরিষদ সচিব সংবাদ মাধ্যমকে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন চন্দ্র পাল তাদেরকে ৪ আগস্ট মঙ্গলবার তার অফিসে ডাকেন এবং ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে লিখিত দিতে বলেন। এছাড়াও প্রশাসক নিয়োগের জন্য তাদেরকে জেলা প্রশাসক বরাবর দরখাস্ত করতে বলেন। এতে ইউনিয়ন পরিষদ সচিবরা রাজি না হওয়ায় তাদেরকে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেন। অপরদিকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা মনঃক্ষুণ্য থাকায় চরম বিপাকে সাধারণ জনগণ।
এই ধরনের হঠকারী কর্মকান্ডের কারণে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা বিভ্রান্ত অবস্থায় থাকায়, হাজার হাজার সেবা গৃহিতা বিপাকে পড়েছে, যেমন পরিচয় পত্র, ওয়ারিশ সার্টিফিকেট, প্রত্যয়ন পত্র, জন্ম নিবন্ধন, মৃত্যু নিবন্ধন,সহ সব ধরনের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।
দাড়িয়াল ইউনিয়নের ৩ ওয়ার্ডের বাসিন্দা খাদিজা বেগম সংবাদ মাধ্যমকে জানান তিনি একটি ওয়ারিশ সার্টিফিকেট এর জন্য তিন দিন যাবত প্রতিনিয়ত ইউনিয়ন পরিষদে গেলেও তিনি তার ওয়ারিশ সার্টিফিকেট পায়নি । বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোন চেয়ারম্যানের সাথে আলাপ না করেই বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের নামে সরকারি বরাদ্দের এক কোটি টাকা ভাগ বাটরা করেছেন।
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন চন্দ্র পালের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি সংবাদ মাধ্যমকে জান ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের মাসিক মিটিংয়ে দাওয়াত তার নাজিব দিয়ে থাকেন তাদেরকে দাওয়াত দেওয়ার বিষয়ে তিনি অবহিত নন। প্রশাসক নিয়োগের গেজেটের বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।