মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ন
আজকের শিরোনাম
তাড়াশে মাজারে নতুন রান্নাশালা ও অজুখানা উদ্বোধন বকশীগঞ্জে পাহাড়ি ঢালুতে শিমুল আলু চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষকরা। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক যোগাযোগে নিরলসভাবে কাজ করছে ART খুলনায় সুপার হিরো ডি এ তায়েব, ফ্যান ক্লাবের উষ্ণ অভ্যর্থনা প্রবাসীদের মর্যাদা ও নতুন কালুরঘাট সেতুর কাজে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে: এমপি সরোয়ার আলমগীর চিকিৎসা, সাহিত্য ও ইসলামী জ্ঞানচর্চায় অনন্য ডা. মিজানুর রহমান কবি-সাহিত্যিক, ইসলামী আলোচক ও বহুমাত্রিক জ্ঞানচর্চায় উজ্জ্বল এক প্রতিভা ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নে উন্নয়নের প্রত্যয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ সালেহ আহমেদ নানিয়ারচরে আইন-শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত : অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের বার্তা টেকনাফ হ্নীলার ৫২ যুবক দুর্যোগ মোকাবিলায় স্বেচ্ছাসেবী ভূমিকার অঙ্গীকার করেন সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দৌলতপুর গ্রামে সরকারি রাস্তা দখল, স্থাপনা নির্মাণ, জনসাধারণের চলাচলে বাধা এবং রাস্তা বন্ধের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে জরুরি প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন মাননীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ এবং প্রিয় এলাকাবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

প্রবাসী হিরা সরকারের অজানা গল্প

মোঃ শাহ আলম / ২৪২ বার দেখা হয়েছে
আপডেট: শুক্রবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪


হিরা সরকার। হতদরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা একজন সাদা মনের মানুষ।বর্তমানে তিনি একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা । তার এই গল্পের পিছনে যার অবদান সবচেয়ে বেশি তিনি তার গর্ভধারিণী মা।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা থানার আওতাধীন ৮ নং সলঙ্গা ইউনিয়নের চরগোঁজা গ্রাম।এই অজোপাড়া গ্রামে বাস করত হতদরিদ্র নসিম উদ্দিন সরকার। তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে অভাব অনটনের সংসার।কোনো মতে চলে তাদের সংসার।এর মধ্যে বাবা নসিম উদ্দিন সরকার ও মা জহুরা বেগমের পঞ্চম সন্তান হিসেবে কোল জুড়ে নতুন অতিথি হয়ে আসেন হিরা সরকার।

দারিদ্র্যতার কষাঘাতে জর্জরিত পরিবার থেকে হিরা সরকার ভর্তি হন চরবেড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখান থেকে তিনি ১৯৯৫ সালে পঞ্চম শ্রেণি পাশ করে ভর্তি হন চরবেড়া হাইস্কুলে। লেখাপড়ার পাশাপাশি তিনি শ্রমিকের কাজও করতেন।স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া করে সেনা বাহিনীতে চাকরি ও ফুটবলার হওয়ার। কিন্তু তখন তার বাবা অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। দীর্ঘ দিন অসুস্থ্য থাকা অবস্থায় তার বাবা নসিম উদ্দিন সরকার ইন্তেকাল করেন।ফলে লেখাপড়া ও সংসারের দায়িত্ব তার নিজের কাঁধে বর্তায়। খরচের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এসএসসি পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপের টাকা সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়ে লেখাপড়া ছেড়ে দেন হিরা সরকার ।

হতাশ হয়ে বসে না থেকে হিরা সরকার তার চাচাতো ভাই ও বোনের বরের সহযোগিতায় তাঁত বুনানোর কাজে যোগ দিয়ে সংসার পরিচালনা করতে থাকেন।অভাবের সংসার নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো চলতে থাকে।এমতাবস্থায় তিনি সংসারের হাল ধরার জন্য বিয়ে করে স্ত্রী নিয়ে আসেন ঘরে।

জীবন যুদ্ধে অর্থনৈতিক ভাবে সফলতার স্বপ্নে বিভোর হিরা সরকার। তাই তিনি তাঁত বুনোর কাজ ছেড়ে সিদ্ধান্ত নিলেন বিদেশ যাওয়ার। কিন্তু কীভাবে অর্থ যোগাড় করবেন চিন্তায় পড়ে যান!অবশেষে মায়ের পরামর্শে সকল নিকটতম আত্মীয় স্বজন ডেকে সহযোগিতা চাইলে যার যার অবস্থান থেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।বিশেষ করে তার ভাই ছোরহাব আলী নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে তাকে অর্থের যোগান দেন।

হিরা সরকার বিদেশ যাবার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ২০০৬ সালে ২৪ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের মাটিতে পাড়ি জমান।শুরু হয় প্রবাস জীবন। বহু চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে কেটে যায় জীবনের ১৬ টি বছর।অবশ্য মাঝে মধ্যে দেশে এসে ঘুরেফিরেও যেতেন।কয়েক বছর অবস্থানের পর তিনি ব্যবসা শুরু করে দেশের জন্য বয়ে আনেন রেমিট্যান্স। পরিবারের জন্য যোগান দিতেন অর্থ।। ফিরে আসে জীবন যাত্রার মান।ফিরে আসে সংসারের আর্থিক স্বচ্ছলতা।কিন্তু তিনি ব্যবসার সফলতা ধরে রাখতে না পেরে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে অবশেষে সৌদি আরবের মাটি থেকে প্রবাস জীবন শেষ করে ২০২২ সালের ৪ ডিসেম্বর পা রাখেন প্রিয় জন্ম ভূমি সলঙ্গা থানার চরগোঁজার মাটিতে।

হিরা সরকার থেমে থাকার পাত্র নন।দেশের মাটিতে মাস ছয়েক যেতে না যেতে আবারও তিনি কাজের উদ্দেশ্যে চলে যান প্রবাসে।তবে এবার সৌদি আরব না গিয়ে ২০২৩ সালের জুন মাসের ৩ তারিখে চলে যায় লিবিয়ায়।সেখানে ৩ মাসের মতো কাজ করে।তারপর বন্দি হন মাফিয়া চক্রের হাতে। মাফিয়া চক্রের দ্বারা এক মাস বন্ধি জীবনে হিরা সরকার অমানবিক নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হন।ফলশ্রুতিতে ঐ চক্রের সাথে ১২ লক্ষ টাকা কন্ট্রাক করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবশেষে ভূ-মধ্য সাগর পাড়ি দিয়ে ২০২৩ সালের জুন মাসে কাঙ্খিত রাস্ট্র ইতালি গমণ করেন।বর্তমানে তিনি সেখানেই একটি কোম্পানিতে কর্মরত রয়েছেন।

দারিদ্রতার করাল গ্রাসে সংসার নিস্পেষিত হলেও ছোট বেলা থেকে বিভিন্ন খেলা-ধূলার প্রতি হিরা সরকারের প্রবল ইচ্ছা ও মনোবল ছিল।তাই তিনি এলাকার যুব সমাজ কে সংগঠিত করে ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেন হিরা স্পোর্টিং ক্লাব।কিন্তু সমাজের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর দুঃখ দূর্দশা দেখে তার মন সহায়তা করার জন্য কাঁদে।তাই তিনি তার ক্লাবের নাম একটু পরিমার্জন করে হিরা স্পোর্টিং ক্লাব (মানব সেবা সংগঠন) রাখেন।বর্তমানে তিনি প্রবাস থেকেও ঐ সংগঠনের সভাপতি।তিনি তার সাধ্যমত এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসাসহ হতদরিদ্রদের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন ।এলাকার যুব সমাজকে বিভিন্ন ধরনের মাদকমুক্ত রাখার জন্য খেলা-ধূলার প্রতি আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে চরবেড়া সোনার বাংলা সংসদ কর্তৃক চলতি হিরা সরকার ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৪, তার নামে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানান।

হিরা সরকার দুঃসময়ে তার পাশে থাকা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জনাব মতিয়ার রহমান, চাচাতো ভাই মহির উদ্দিন সরকার, শ্যালক সাজ্জাদ হোসেনসহ সবার প্রতি চির কৃতজ্ঞ বলে জানান। মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে সবার কাছে তার জন্য দোয়া চেয়ে বলেছেন,আল্লাহ তায়ালা যেন তার সামর্থ অনুযায়ী অসহায়দের সহযোগিতা এবং যুব সমাজকে খেলা-ধূলার মাধ্যমে মাদকের করাল গ্রাস থেকে দূরে রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে পারেন।

লেখক: শিক্ষক, সাংবাদিক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর